কুষ্টিয়ার নিস্তব্ধ রাত। চারপাশে অন্ধকার, শুধু পদ্মার ঢেউয়ের শব্দ—হঠাৎ সেই শান্ত রাত ছিন্নভিন্ন হয়ে ওঠে গুলির বিকট শব্দে। কুষ্টিয়া জেলার হরিপুর এলাকায় পদ্মা নদী যেন মুহূর্তেই পরিণত হয় এক রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত মধ্যরাতে, নিয়মিত টহলে থাকা পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার লক্ষীকুণ্ডা নৌ-ফাঁড়ির একদল পুলিশ সদস্য অতর্কিত হামলার শিকার হন। ওত পেতে থাকা অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা হঠাৎ করেই তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পরিস্থিতি তখন সিনেমার দৃশ্যের মতো টানটান—জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। শুরু হয় ভয়ঙ্কর গোলাগুলি।

এই রুদ্ধশ্বাস সংঘর্ষে নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলামসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ হন। আহতরা হলেন—ইনামুল হক, শাহিনুর হক, নাজমুল হাসান এবং মানিক মিয়া। তাদের সঙ্গে থাকা এক নৌকার মাঝিও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা এখনো চিকিৎসাধীন, তবে তাদের চোখে-মুখে এখনো সেই ভয়ংকর রাতের আতঙ্ক স্পষ্ট।
আহত ইনচার্জ খন্দকার শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে তারা অভিযান পরিচালনা করতে যান। সন্ত্রাসীদের বাধা দিলে হঠাৎ করেই তারা গুলি চালায়। সেই মুহূর্তে দায়িত্ব আর জীবনের টানাপোড়েনে জড়িয়ে পড়ে পুরো দল।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউর রহমান জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নদীর বুকে সেই রাতের গুলির শব্দ এখন স্তব্ধ। কিন্তু রেখে গেছে উত্তেজনা, রহস্য আর প্রতিশোধের অদৃশ্য ছায়া—যেন পদ্মার ঢেউয়ের ভেতর এখনো লুকিয়ে আছে সেই রক্তাক্ত রাতের গল্প।
