গ্রাফিতির আঁচড়ে উত্তপ্ত রাজনীতি, ইট-পাটকেলে কেঁপে উঠল সিটি কলেজ—আহত অন্তত ১০, স্থগিত ক্লাস-পরীক্ষা
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ ক্যাম্পাসে যেন হঠাৎই নেমে এলো অস্থিরতার কালো ছায়া। দেয়ালের একটিমাত্র শব্দ—‘গুপ্ত’—ঘিরে ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল—দুই সময়েই সংঘর্ষের বিস্ফোরণ ঘটে কলেজের সামনে। গ্রাফিতি আঁকা এবং তা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখির জেরে শুরু হওয়া বাকবিতণ্ডা দ্রুতই রূপ নেয় সহিংসতায়। ইটপাটকেল, লাঠিসোটা—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাস পরিণত হয় এক অশান্ত ময়দানে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কলেজ ভবনের দেয়ালে আগে লেখা ছিল ‘ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রলীগ মুক্ত ক্যাম্পাস’।
সোমবার রাতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এসে ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে দিয়ে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দটি লিখে দেন। এই পরিবর্তন যেন আগুনে ঘি ঢেলে দেয়। মঙ্গলবার সকালেই শুরু হয় প্রথম দফা সংঘর্ষ, আর বিকেলে তা নতুন করে জ্বলে ওঠে আরও তীব্রভাবে।
পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি সিদ্ধান্ত নেয়। অভ্যন্তরীণ ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়, যদিও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কিছু নির্ধারিত পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কলেজের উপাধ্যক্ষ জসীম উদ্দিন জানান, একটি শব্দ পরিবর্তনকে কেন্দ্র করেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের সূত্রপাত। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপ-কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দেওয়া হয়েছে এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানো ঠেকাতে ক্যাম্পাস ও আশেপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। ছাত্র শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের আঁকা গ্রাফিতি নষ্ট করে উস্কানিমূলক লেখা যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ বলছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বড় সংঘর্ষের জন্ম হয়েছে।
একটি শব্দ, একটি দেয়াল—আর তারই আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত হলো শিক্ষাঙ্গনের শান্ত পরিবেশ। প্রশ্ন রয়ে যায়—কলমের জায়গায় কেন বারবার উঠে আসে লাঠি?
