বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পল্লবীতে বিএনপি নেতাকে গুলি, নেপথ্যে ১৫ লাখ টাকার মাদক কারবার

স্টাফ রিপোর্টার
আগস্ট ১২, ২০২৬ ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

১৫ হাজার ইয়াবার চালান, পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ—পিস্তলের বাঁট দিয়ে মাথায় আঘাত, পরে পেটে গুলি; ডিবির অভিযানে গ্রেপ্তার ৫। প্রতীকী ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, মাদক কারবারের ১৫ লাখ টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়।

ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল সোমবার রাতে ঢাকার সাভারের আমিনবাজার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, হামলায় ব্যবহৃত একটি লাল রঙের প্রাইভেটকার, একটি ভক্সওয়াগন গাড়ি এবং এক হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. রুবেল ওরফে ল্যাংড়া রুবেল, বাপ্পা ওরফে শাকিল, হামিদুর ওরফে মাখন, পারভেজ ও রাব্বি।

১৫ হাজার ইয়াবার চালান, পাওনা ১৫ লাখ

ডিবি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার রুবেল ও বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন পরস্পরের পরিচিত। তদন্তে তাদের দুজনের বিরুদ্ধেই মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, কিছুদিন আগে আলমগীরকে ১৫ হাজার পিস ইয়াবা সরবরাহ করেন রুবেল। ওই চালানের বিপরীতে রুবেলের পাওনা ছিল প্রায় ১৫ লাখ টাকা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে টাকা পরিশোধ না করে আলমগীর টালবাহানা করছিলেন বলে অভিযোগ।

সর্বশেষ ঘটনার দিন টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও আলমগীর তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রুবেল সহযোগীদের নিয়ে তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি।

গাড়িতে বসেই ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনা

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে রুবেল দাবি করেছেন, আলমগীরকে ‘শিক্ষা’ দিতে তিনি সহযোগীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রুবেলের একটি পা কাটা থাকায় হাঁটাচলায় তার কিছুটা সমস্যা হয়। এ কারণে তিনি গাড়িতে বসেই একজন সহযোগীকে আলমগীরকে ধরে আনার নির্দেশ দেন।

সহযোগী আলমগীরকে ধরে আনলে রুবেল পিস্তলের বাঁট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এরপর তার পেটে দুটি গুলি করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

রুবেলের দাবি, আলমগীরকে হত্যার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে টাকা নিয়ে বিরোধের কারণে তাকে ভয় দেখানো ও ‘শিক্ষা দেওয়ার’ উদ্দেশ্যেই হামলা চালানো হয়েছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা আরও জানান, সম্প্রতি চট্টগ্রামে রুবেলের একটি ইয়াবার চালান ধরা পড়ায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে আলমগীরের কাছ থেকে পাওনা টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ে।

গুলি চালিয়ে অস্ত্র পুঁতে পালায়

ডিবি সূত্র জানায়, হামলার পর ব্যবহৃত অস্ত্রটি মিরপুরের রূপনগর এলাকার বেড়িবাঁধের মাটির নিচে লুকিয়ে রাখেন রুবেল ও তার সহযোগীরা। এরপর তারা ঢাকার বাইরে চলে যান।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার এড়াতে তারা বিভিন্ন রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর সাভারের আমিনবাজার, গাজীপুর ও কুষ্টিয়ায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, গ্রেপ্তার রুবেল দাবি করেছেন, মাদক কারবারের টাকা নিয়ে বিরোধের কারণেই গুলির ঘটনা ঘটেছে। তার বক্তব্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

তিনি জানান, হামলায় জড়িত মোট ছয়জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পাঁচজনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরজনকেও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চায়ের দোকানের সামনে মুহূর্তেই গুলির ঝড়

এর আগে গত ৭ আগস্ট পল্লবী থানাধীন মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকে আলমগীর হোসেনকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। এতে আলমগীর ছাড়াও জোছনা বেগম নামে এক পথচারী গুলিবিদ্ধ হন।

আলমগীরের দূরসম্পর্কের ভাতিজির স্বামী মো. আশিক জানিয়েছিলেন, আলমগীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। পুরান ঢাকার সোয়ারীঘাটে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে মাছের আড়ত পরিচালনা করেন।

ঘটনার দিন বিকেলে বাসা থেকে বের হয়ে মিরপুর-১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের দুই নম্বর সড়কের একটি চায়ের দোকানের সামনে যান আলমগীর। সেখানে বসে আড্ডা দেওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকারে করে চারজন এসে তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

হঠাৎ গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে দুর্বৃত্তরা।

তদন্তে মাদক কারবারের নতুন মোড়

প্রথমদিকে ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধ, ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণে—তা নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও তদন্তে এখন ১৫ লাখ টাকার মাদক কারবারের পাওনা সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

তবে গ্রেপ্তার রুবেলের দেওয়া তথ্যসহ তদন্তে উঠে আসা সব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফলে হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের ভূমিকা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

ডিবি এ ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, যানবাহন ও মাদক উদ্ধারের পর ঘটনাটির পেছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তাদের অর্থের উৎস এবং মাদক কারবারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে ডিবির সংবাদ সম্মেলন করার কথা থাকলেও পরে তা একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

১৫ লাখ টাকার পাওনা—নাকি আরও বড় কোনো মাদক নেটওয়ার্ক?

একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পাঁচজন গ্রেপ্তার হলেও তদন্তের সামনে এখন আরও বড় প্রশ্ন—১৫ হাজার ইয়াবার সেই চালান কোথা থেকে এসেছিল, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং ১৫ লাখ টাকার এই বিরোধের পেছনে মাদক কারবারের কত বড় নেটওয়ার্ক সক্রিয়?

ডিবির পরবর্তী তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদেই এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।