শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই, সবচেয়ে প্রিয় জায়গা ঠাকুরগাঁও: শামারুহ মির্জা

রওশন জাহান মিতু
আগস্ট ১৫, ২০২৬ ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরে মেয়ে শামারুহ মির্জা। ফাইল ছবি

নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা। নিজের শৈশবের স্মৃতি, পরিবারের সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের আত্মিক সম্পর্ক এবং বাবার দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার কথা তুলে ধরে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।

শামারুহ মির্জা বলেছেন, পৃথিবীর যে প্রান্তেই তিনি যান না কেন, যত অসাধারণ জায়গাতেই যান না কেন—আজও যদি তাকে প্রশ্ন করা হয়, তার সবচেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটি, তাহলে তার উত্তর একটাই—ঠাকুরগাঁও।

ঠাকুরগাঁও–১ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিএনপিসহ দলের সব পদ থেকে পদত্যাগ করে রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন জমা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিজের ফেসবুক পেজে বাবাকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট দেন শামারুহ মির্জা।

তিনি লেখেন, ‘পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যাই না কেন, যত অসাধারণ জায়গায়ই যাই না কেন, আমাকে আজও যদি কেউ প্রশ্ন করে, সবচেয়ে প্রিয় জায়গা কোনটি, আমি বলি ঠাকুরগাঁও।

শৈশবের স্মৃতিচারণ করে শামারুহ মির্জা লেখেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার বাবা ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে আসেন। তখন তিনি ছিলেন একেবারেই ছোট। দুই বোন সারাদিন খেলাধুলা করতেন। বিকেল হলেই আশপাশের শিশুরা তাদের বাড়িতে আসত। বাড়ির লনে চলত বরফ পানি, কাবাডি, সাত চারা, লুকোচুরি আর শীতকালে ব্যাডমিন্টন খেলা।

চাচাদের সঙ্গে দাবা খেলার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন তিনি। লিখেছেন, আসগর আলী স্যারের কাছে তার পড়াশোনা। তার দাদি মহিলা সমিতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দুপুরে কখনও দাদির সঙ্গে পুরনো সিনেমা হলের পেছনে মহিলা সমিতির অফিসেও যেতেন। শৈশবের এমন অসংখ্য মধুর স্মৃতি আজও তার কাছে ঠাকুরগাঁওকে বিশেষ করে রেখেছে।

শামারুহ মির্জা বলেন, ‘এই শহর, এই জেলা আমাদের পরিবারের সবচেয়ে আদরের। আমাদের পরিবারের প্রতিটি সদস্যের স্বপ্ন দেখার শুরু এই জেলায়। এই জেলার মানুষ আমাদের পরিবারের আত্মার আত্মীয়।

বাবার রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও লেখেন, তার বাবা যখন সারা দেশ ঘুরে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন, তখন ঠাকুরগাঁওয়ের বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের রাজনৈতিক দুর্গ আগলে রেখেছেন। নিজের ‘ফয়সল চাচা’, ‘পয়গাম চাচা’সহ আরও অনেক নেতাকর্মী জীবন-প্রাণ দিয়ে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শামারুহ মির্জার ভাষায়, নিজেদের শ্রম, ভালোবাসা, সাহস, অর্থ ও শক্তি দিয়ে যারা দলের জন্য কাজ করেছেন, তাদের অবদান অনেক ঊর্ধ্বে।

নির্বাচনি প্রচারণার স্মৃতিও তুলে ধরেছেন তিনি। শামারুহ মির্জা লিখেছেন, নির্বাচনি প্রচারণার সময় প্রতিটি ইউনিয়নে গিয়ে তিনি দেখেছেন, সাধারণ মানুষ কীভাবে তাদের পরিবারের পাশে থেকেছেন। সে কারণেই তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমার আব্বা আপনাদের আমানত। আপনাদের রক্ষা করেন, তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবেন।

তার দাবি, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ সেই আমানতের মর্যাদা দিয়েছে এবং তার বাবাও নিজের প্রতিশ্রুতি রেখেছেন। গত ছয় মাসে জেলায় বেশ কিছু যুগান্তকারী উন্নয়নকাজের সূচনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন সেগুলো এগিয়ে নিতে হবে। সামনে বিশাল কাজ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন শামারুহ মির্জা। তার পোস্টে জাতিসংঘের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে দাবি করা হয়েছে, দেশে উগ্রবাদীরা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারের সময় ‘কূট পরিকল্পনার’ কারণে উগ্রবাদের চর্চা হয়েছে এবং ইউনূস সরকারের সময়ও তারা প্রশাসনের কাছ থেকে ‘প্রশ্রয়’ পেয়েছে—এমন অভিযোগও করেছেন তিনি।

তবে একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের উদার ও অসাম্প্রদায়িক মানসিকতার প্রশংসা করে শামারুহ মির্জা লিখেছেন, তার বিশ্বাস ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ বরাবরই লিবারেল ছিল, আছে এবং থাকবে। হিন্দু-মুসলমান সবাই মিলেই এই জেলাকে সামনে এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাবার রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে শামারুহ মির্জা লেখেন, ‘আমার আব্বা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য তার প্রাণপ্রিয় দলের নমিনেশন পেয়েছেন। আজকে আমার দাদা-দাদির কথা খুব মনে হচ্ছে।

সবশেষে বাবার জন্য ঠাকুরগাঁওবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে তিনি লেখেন, ‘আমার আব্বুর জন্য দোয়া করবেন। তিনি যেন আমৃত্যু আপনাদের জন্য কাজ করতে পারেন। আপনাদের ঋণ আমাদের পরিবার কোনোদিন শোধ করতে পারবে না।

শামারুহ মির্জার আবেগঘন এই বক্তব্যে ফুটে উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের সঙ্গে মির্জা পরিবারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, শৈশবের স্মৃতি এবং রাজনৈতিক পথচলায় জেলার মানুষের ভূমিকার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।