বৃহস্পতিবার, ১৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণ নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক, এক্সপাঞ্জ করা হলো এমপির বক্তব্য

সমতল মাতৃভূমি ডেস্ক
জুন ১৮, ২০২৬ ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে, জামায়াতে ইসলামীর মেহেরপুর-১ আসনের এমপি মো. তাজউদ্দিন খানের এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বুধবার সৃষ্টি হয় তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তাজউদ্দিন খান বলেন, সরকার ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। তার হিসাব অনুযায়ী, ওয়ার্ডপ্রতি গড়ে প্রায় ৯০টি পরিবার এই সুবিধা পাবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাকি দরিদ্র পরিবারগুলোর কী হবে?

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে ধর্ষণ ও অর্থ আদায়ের ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভনে ধর্ষণের শিকার হয়েছে, টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এই বক্তব্যের পরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপির এমপি এম মাহবুবউদ্দিন খোকন তীব্র আপত্তি জানান। তিনি বলেন, সংসদে এভাবে কথা বলা উচিত নয়। সংসদীয় ভাষা জানতে হবে, সেভাবেই কথা বলতে হবে। তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণ’ সংক্রান্ত বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

স্পিকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল অভিযোগটিকে আপত্তিকর আখ্যা দিয়ে তা এক্সপাঞ্জ (কার্যবিবরণী থেকে বাদ) করার ঘোষণা দেন।

তবে এখানেই থেমে থাকেনি বিতর্ক। সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলেন, যদি বক্তব্যটি অসত্য না হয় এবং কোনো অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার না করা হয়ে থাকে, তাহলে কেন তা এক্সপাঞ্জ করা হবে?

এরপর আবার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তাজউদ্দিন খান পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ ও পুলিশের বক্তব্যের উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল ফরিদপুরের সোনাগাজী থানায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ওসি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, ২৫ এপ্রিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ভাঙা ইউনিয়ন পরিষদের বিএনপির সহ-সম্পাদক এনামুল হককে একই ধরনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর বা এই সরকারের নয়, এটি সারা দেশের মানুষের একটি আশার বিষয়।

মাগরিবের নামাজের বিরতির পরও বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। পুনরায় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে প্রকাশিত ঘটনা, দলীয় বহিষ্কার ও গ্রেপ্তারের মতো তথ্য থাকায় বক্তব্যটিকে অসত্য বলা যায় না। তাঁর দাবি, তাজউদ্দিন খান ফ্যামিলি কার্ডের বিরোধিতা করেননি; বরং কার্ডকে ব্যবহার করে সংঘটিত অপকর্মের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার জানান, পরবর্তীতে তথ্যসূত্র ও মামলার বিবরণসহ যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা সংসদীয় রেকর্ডে থাকবে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে আপত্তি এলেও তিনি ঘোষণা করেন, “বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গেছে।

ফলে ‘ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ধর্ষণ’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে সৃষ্টি হওয়া এই বিতর্ক দিনভর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।