বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বছরে দশটা নয়, একটা ভালো কাজেই তৃপ্তি, বনলতা সেন’ হয়ে দর্শকের হৃদয়ে নতুন ঠিকানা গড়ছেন নাবিলা

বিনোদন ডেস্ক
জুন ১৭, ২০২৬ ৬:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক

অভিনয়জীবনে সংখ্যার চেয়ে গুণগত মানকেই বেশি গুরুত্ব দেন অভিনেত্রী ও উপস্থাপক মাসুমা রহমান নাবিলা। তাই বছরে একের পর এক কাজের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে নয়, বরং একটি স্মরণীয় চরিত্রের মধ্য দিয়েই দর্শকের হৃদয়ে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চান তিনি। আর সেই স্বপ্নের নতুন নাম, বনলতা সেন।

গেল ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসায় আপ্লুত নাবিলা। তাঁর ভাষায়, একজন শিল্পী হিসেবে প্রতিটি কাজের সঙ্গে অনেক প্রত্যাশা জড়িয়ে থাকে, কিন্তু দর্শক সেটিকে কীভাবে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে সবসময়ই থাকে অনিশ্চয়তা। ‘বনলতা সেন’ মুক্তির পর দর্শকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে।

শুধু তাঁর অভিনয় নয়, সিনেমাটির নির্মাণশৈলী, সেট, পোশাক, আবহ ও নান্দনিক উপস্থাপনাও দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। আর এ ভালোবাসাকেই নিজের অভিনয়জীবনের বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তিনি।

‘বনলতা সেন’ চরিত্রে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরতে কঠোর প্রস্তুতি নিতে হয়েছে নাবিলাকে। ওজন কমানো থেকে শুরু করে জীবনযাপনের নানা পরিবর্তন, সবকিছুই করেছেন চরিত্রের প্রয়োজনে। এমনকি এই প্রস্তুতির জন্য বেশ কয়েকটি কাজের প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। শুটিং চলাকালে শারীরিক ও মানসিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হলেও শেষ পর্যন্ত এই চরিত্রটিকে নিজের অভিনয়জীবনের অন্যতম কঠিন এবং স্মরণীয় যাত্রা বলে মনে করছেন নাবিলা।

তাঁর বিশ্বাস, ‘বনলতা সেন’ কেবল আরেকটি সিনেমা নয়, বরং তাঁর ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা। কারণ, দর্শকের ভালোবাসা একজন শিল্পীর সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়। তবে সংখ্যার মোহে নয়, মানসম্মত কাজের প্রতিই তাঁর অটুট বিশ্বাস।

নাবিলা বলেন, বছরে দশটা কাজ করার চেয়ে একটা ভালো কাজ করতে পারলে আমি বেশি খুশি। এমন একটি চরিত্রই একজন শিল্পীকে বহু বছর দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখে।

কম কাজ করার কারণও স্পষ্ট করেছেন এই অভিনেত্রী। শুধুমাত্র পর্দায় উপস্থিত থাকার জন্য তিনি কখনো কাজ করতে চান না। যে গল্প তাঁকে স্পর্শ করে না, যে চরিত্র তাঁর হৃদয়ে আলোড়ন তোলে না, সেটি করার আগ্রহও পান না। তাই কাজের সংখ্যা কম হলেও এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ নেই।

মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক

‘আয়নাবাজি’ ‘তুফান’ এবং এখন ‘বনলতা সেন’—এই যাত্রাপথকে তিনি দেখছেন এক সৌভাগ্যের গল্প হিসেবে। তাঁর মতে, ক্যারিয়ারের অধিকাংশ কাজই দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ‘আয়নাবাজি’ তাঁকে দিয়েছে নতুন পরিচয়, ‘তুফান’ পৌঁছে দিয়েছে নতুন দর্শকগোষ্ঠীর কাছে, আর ‘বনলতা সেন’ তাঁকে নতুন করে আবিষ্কার করার সুযোগ এনে দিয়েছে।

‘তুফান’-এ সুপারস্টার শাকিব খান–এর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর জন্য বিশেষ। নাবিলার ভাষায়, বাইরে থেকে যেভাবে মানুষ শাকিব খানকে দেখেন, বাস্তবে তিনি তার চেয়েও বেশি সহজ, আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ। সেটে সহশিল্পীদের স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়ার বিষয়টি তাঁকে মুগ্ধ করেছে।

মাসুমা রহমান নাবিলা। ছবি: ফেসবুক

ভবিষ্যতে আবারও শাকিব খানের সঙ্গে কাজের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি নাবিলা। গল্প ও চরিত্রের প্রয়োজন হলে নতুন কোনো প্রজেক্টে তাঁদের একসঙ্গে দেখা যেতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নারী চরিত্রের অবস্থান নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তাঁর মতে, আগের চেয়ে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটছে, তবে এখনও অনেক পথ বাকি। দর্শকের রুচি বদলাচ্ছে, মানুষ এখন শক্তিশালী গল্প ও গভীর চরিত্র দেখতে চায়। তাই আগামী দিনে আরও শক্তিশালী নারীকেন্দ্রিক সিনেমা নির্মিত হবে বলেই আশাবাদী তিনি।

উপস্থাপনা, অভিনয় ও সংসার—তিনটি ভিন্ন জগতকে সমানভাবে সামলে নেওয়ার পেছনে সময় ব্যবস্থাপনাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন নাবিলা। মা হওয়ার পর জীবনের অগ্রাধিকার বদলে গেছে, মেয়েকে ঘিরেই এখন তাঁর অনেক ভাবনা। তবে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসাও সমানভাবে রয়ে গেছে।

সামনের দিনগুলোতেও নতুন চ্যালেঞ্জিং কাজের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। কয়েকটি নতুন কাজ নিয়ে আলোচনা চললেও এখনই কোনো চমক প্রকাশ করতে রাজি নন এই অভিনেত্রী। তবে তাঁর প্রতিশ্রুতি একটা, দর্শকদের জন্য আবারও নিয়ে আসবেন এমন কিছু কাজ, যা তাঁকে এবং তাঁর দর্শকদের নতুন এক অনুভূতির জগতে নিয়ে যাবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।