প্রতীকী ছবি
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি সোহেল রানাকে (৩৮) ফের গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি (পূর্ববর্তী র্যাব)। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানাধীন আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি কর্মকর্তা জানান, নিহত জহির (২০) ও সোহেল রানা একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। স্থানীয় এক মাদক কারবারির সঙ্গে পরিকল্পনা করে জহিরকে সাভারের হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যান সোহেল। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে জহিরের মরদেহ ছয় টুকরো করে বিক্ষিপ্তভাবে পার্শ্ববর্তী একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় জহিরের বাবা বাদী হয়ে মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। পরে সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে আদালত আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর তাকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
তবে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালীন কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের তালা ভেঙে এবং কারারক্ষীদের আহত করে পালিয়ে যান সোহেল রানা। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি।
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তার অবস্থান শনাক্ত করে এসআরবি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এসআরবি-৪ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর সোহেল দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত ছিল। অবশেষে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
