মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরগুনায় ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ: প্রধান প্রকৌশলীর তদন্তের নির্দেশ, ১৪ মে শুরু অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই ২০, ২০২৬ ৩:১০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন এবং সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।

এ অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক এপিএস ও তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন। অভিযোগের পর প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে থেকে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ জুন বরগুনা এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন মো. মেহেদী হাসান খান। অভিযোগে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন এবং ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় খাল খননের কাজে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং প্রকল্পের অর্থ ছাড় করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, চলতি বছরের মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল অনিয়ম ও অনৈতিকতার মাধ্যমে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, ওই পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে এবং তারা আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ।

তদন্ত কর্মকর্তা ও এলজিইডির বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউসে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অভিযোগের অনুসন্ধানে আরও দাবি করা হয়েছে, কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে ও গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান এসএম লেলিন ট্রেডার্স (লেলিন-দীপ জেভি) এবং সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কারকাজে ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। কমিশনের বিনিময়ে নিম্নমানের কাজ করিয়ে বিল ছাড় করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগও একই ধরনের। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ঠিকাদার মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।

খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। অভিযোগ জানানো হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী ঠিকাদারের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেননি, বরং সম্পন্ন কাজ মেনে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার অভিযোগ করেন, ঢালাইয়ের কিছুদিন পরই সড়কের পিচ উঠে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অভিযোগকারী ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন এবং সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ পাঁচটি আত্মীয়-স্বজন ও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বণ্টন করেছেন। মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে এসব কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তদন্তে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান। তিনি বলেন, কেন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, সেটি অভিযোগকারীই বলতে পারবেন। আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম করিনি।

অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৪ মে থেকে তদন্ত কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

উল্লেখ্য যে, এসব অনিয়মের অভিযোগের মূল বিষয়গুলো সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বেড়িয়ে আসলে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে। তবে এখন সবাই তাকিয়ে আছে তদন্ত কমিটির দিকে। সঠিক তদন্তের দিকে তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্টরা। আবার সঠিক তদন্ত হলে অনেকাংশে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারলে অভিযোগকারীসহ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারবেনগোটা দেশবাসী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।