চাকরির আড়ালে দুর্নীতির সাম্রাজ্য: বেলালের শত কোটি টাকার অট্টালিকা রাজনীতি-অভিযোগে ঘেরা। ফাইল ছবি
ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি নিয়ে বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ার অভিযোগ উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার বেলাল উদ্দিন আকন্দের বিরুদ্ধে। জাল সনদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চাকরি করে তিনি শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অনুসন্ধানে দাবি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কথিত যুবলীগের সাবেক সভাপতি বেলাল উদ্দিন আকন্দ সাব-রেজিস্ট্রার পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। আশুলিয়ার স্প্রিং মিলসহ একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বহুতল ভবন, সিঙ্গাপুরে গার্মেন্টস ব্যবসা, দেশজুড়ে আধুনিক অট্টালিকা এবং শত বিঘা কৃষিজমির মালিকানা রয়েছে—এমন তথ্যই উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।
সূত্র বলছে, মাত্র ছয় বছর বয়সে ‘মুজিবনগর কর্মচারী’ সনদের মতো একটি কাগজপত্রের মাধ্যমে তিনি চাকরির ভিত্তি তৈরি করেন। অথচ জন্মসনদ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধকালেই তিনি ছিলেন শিশু। পরে সেই সনদ ব্যবহার করেই দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে বহাল থেকে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৭ সালে তার এসএসসি পাসের তথ্যও অনুসন্ধানে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০০৮ সালের দিকে তার পারিবারিক অবস্থা সাধারণ ছিল—একটি টিনশেড কাঁচা ঘর ছাড়া তেমন কোনো সম্পদ ছিল না বলে জানা যায়। কিন্তু পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যেই দৃশ্যপট বদলে যায়। শ্রীপুর, মুন্সিগঞ্জ সদর ও গজারিয়া উপজেলায় অল্প সময় চাকরির মধ্যেই তিনি গড়ে তোলেন প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের তিনতলা দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকা।
অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি তিনি পাজেরো জিপ, প্রাইভেট কার ও একাধিক মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। দৌলতপুর বাজার এলাকায় ৬০ শতাংশ জমিতে পাকা মার্কেট, ৫০–৬০ বিঘা কৃষিজমি ও ইরি-বোরো প্রকল্পসহ বিভিন্ন সম্পত্তি কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে অনুসন্ধানে। ঢাকার মিরপুরে পাঁচতলা ভবন ও দুটি ফ্ল্যাট, পাশাপাশি আশুলিয়া ও সাভারে স্প্রিং মিল কারখানার মালিকানার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
আরও অভিযোগে বলা হয়, সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ঘুষের টাকা সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় ‘জাহানারা আক্তার’ নামে এক নারীর সম্পৃক্ততা ছিল, যিনি অফিসে বসে এসব অর্থ লেনদেন করতেন বলে দাবি করা হয়। তবে জাহানারা আক্তার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বেলাল উদ্দিন আকন্দকে চেনেন, তবে তার অফিসে কখনো বসেননি।
এছাড়া অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্ত্রী দেলোয়ারা আকন্দকে উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদকের পদ পাইয়ে দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বেলাল উদ্দিন আকন্দকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সাড়া মেলেনি। দৌলতপুরের বাসভবনে গেলে কর্মচারীরা জানান, তিনি বাজারে গেছেন।
সব অভিযোগই বর্তমানে অনুসন্ধান ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে………
