ফাইল ছবি
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আত্মীয়ের বাড়িতে বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়েছিলেন সোহেলী ইসলাম (৪২)। আনন্দঘন সেই সফর শেষে ঢাকার ধানমন্ডির বাসায় ফেরার পথেই নেমে আসে ভয়াবহ এক দুঃসহ অভিজ্ঞতা।
ফেরার সময় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গেট অতিক্রম করার মুহূর্তে হেলমেট পরা দুই ছিনতাইকারীর মোটরসাইকেল হঠাৎ তাদের রিকশার পাশে এসে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ছিনতাইকারী সোহেলীর হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দেয়।
চলন্ত রিকশার ভেতরেই শুরু হয় প্রাণপণ টানাহেঁচড়া। একপর্যায়ে ব্যাগ না ছাড়তে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান সোহেলী ইসলাম। সঙ্গে সঙ্গেই তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং কান দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে।
তার সঙ্গে থাকা মেয়ের চিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
টানা চারদিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াইয়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সোহেলী ইসলাম।
পরে তার মরদেহ নেওয়া হয় পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পশ্চিম টেংরিপাড়া এলাকায় নানাবাড়িতে। সেখানেই বৃহস্পতিবার বিকেলে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোহেলী ও তার মেয়ে সোমাইয়া আলম দিনাজপুরে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে এই মর্মান্তিক ছিনতাইয়ের শিকার হন তিনি।
সোহেলীর ফুপাতো ভাই সরওয়ার পারভেজ সবুজ বলেন, “ছিনতাইকারীর হ্যাঁচকা টানে রিকশা থেকে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আমরা তাকে হারাই।”
তিনি আরও জানান, সোহেলী এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসের মেডিকেল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মায়ের মৃত্যুতে এখন ছোট মেয়েটির ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগে রয়েছে।
সোহেলীর চাচা কাজল বলেন, “তিনি ছিলেন একজন সংগ্রামী নারী। ঘটনার পরপরই আমরা ঢাকায় ছুটে যাই, তবে নিকটাত্মীয় না থাকায় তখনই মামলা করা সম্ভব হয়নি। এখন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।”
এদিকে শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তবে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তিনি বলেন, “ঘটনাটি ঠিক কোথায় ঘটেছে এবং কীভাবে ঘটেছে তা যাচাই করা হচ্ছে। স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে নগরীতে ছিনতাইয়ের সময় ব্যাগ টানাটানিতে চলন্ত যান থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও একাধিক ঘটনায় একইভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্ক তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীতে এমন ছিনতাইয়ের পুনরাবৃত্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
