চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির তোড়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাহপুর গ্রামে পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। নদীভাঙনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জরুরি ও আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং (নিক্ষেপ) কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে ফয়জুল্লাহপুর পয়েন্টে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল গফুর। উদ্বোধনের পর তিনি ভাঙনকবলিত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের খোঁজখবর নেন।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, পদ্মার প্রবল স্রোতের কারণে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দিতে জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজারের বেশি জিও ব্যাগ এবং ২৩০টি জিও টিউব প্রস্তুত করে ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
তবে সরকারি উদ্যোগে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলেও নদীপাড়ের মানুষের মনে স্থায়ী স্বস্তি ফিরেনি। ফয়জুল্লাহপুরসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, প্রতি বছর বর্ষা এলেই এ ধরনের সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পদ্মার তীব্র স্রোতে কয়েক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ জিও ব্যাগ ভেসে যায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না থাকায় প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং শত শত পরিবার হারাচ্ছে তাদের বসতভিটা ও ফসলি জমি।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, জিও ব্যাগ নয়—সিসি ব্লক দিয়ে স্থায়ী ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি পদ্মা নদীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং দ্রুত বাস্তবায়নেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভেড়ামারা–সোনাইকুন্ডি পাকা সড়ক এবং ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম একসময় পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।
স্থানীয়দের এই দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল গফুর বলেন, জিও ব্যাগ ফেলা একটি সাময়িক ও জরুরি পদক্ষেপ মাত্র। এই জনপদকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হলে সিসি ব্লকের বিকল্প নেই। আমি জাতীয় সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করব এবং ভেড়ামারার পদ্মাপাড় রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও সিসি ব্লক সম্বলিত একটি দীর্ঘমেয়াদি মেগা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. নুরুল আমিন জসিম, ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির মো. জালাল উদ্দিন, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
