ফাইল ছবি
তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরির পরিমাণ কত হওয়া উচিৎ–এ ব্যাপারে পৃথক লিখিত প্রস্তাব দেবে মালিক পক্ষ ও শ্রমিক পক্ষ। আগামীকাল সোমবার অনুষ্ঠেয় পোশাক খাতের সব পদে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে গঠিত ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ এর দ্বিতীয় বৈঠকে এ প্রস্তাব দেওয়া হবে। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে সকাল ১১টায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে আরও দুইজন সদস্য মজুরি বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
গত বুধবার মজুরি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বৈঠকে আগামী মাস থেকে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ একমত হন। অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের মজুরি জানুয়ারি মাসে উত্তোলনের সময় নতুন কাঠামোয় মজুরি পাবেন শ্রমিকরা। এরপর থেকে শ্রমিকদের আন্দোলন কিছুটা কমে আসে। আশুলিয়া ছাড়া অন্যান্য শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় আজ রোববারও আশুলিয়া অঞ্চলে ৩০টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে গত ১ নভেম্বর পোশাক শিল্পশ্রমিকদের মজুরি পুনঃনির্ধারণে ৬ সদস্যের নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান পিরোজপুরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সৈয়দ আজাদ সুবহানীর নেতৃত্বে কমিটিতে মালিক পক্ষের দুই প্রতিনিধি হচ্ছেন, তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশেনর যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের দুই প্রতিনিধি হচ্ছেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আক্তার ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন। বোর্ডে একমাত্র নিরপেক্ষ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
৩০ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। তবে বিভিন্ন সভা সমাবেশে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন পরিমাণে দাবি করে আসছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা ও কার্যকর হয়। পরের মাস থেকে বর্ধিত মজুরি পেয়ে আসছেন শ্রমিকরা। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর পরপর পোশাক খাতে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। তবে গত ১০ এপ্রিল শ্রম আইন সংশোধন বিল সংসদে পাস হয়। এতে মজুরি পুনর্নির্ধারণের সময় পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়।
