রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুহূর্তেই চার প্রাণহানি,চোখ খুলে পৃথিবী দেখার আগেই বাবা-মার সঙ্গে চলে গেল ৮ মাসের শিশুটি

জামালপুর প্রতিনিধি
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শহরে কেনাকাটার জন্য বের হয়ে সড়কে প্রাণ হারান ইসলামপুরে মোরশেদ আলম, ইকরামা বেগম ও ৮ মাস বয়সী শিশু রিফা। ফাইল ফটো

ছোট্ট একটি সংসার। স্বামী, স্ত্রী আর আট মাসের ফুটফুটে শিশুকন্যা। পরিবারের সঙ্গে একটু সময় কাটানো ও শহরে গিয়ে কেনাকাটার জন্য বাড়ি থেকে জেলা শহরের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন তারা। কিন্তু এটিই ছিল তাদের জীবনের শেষ যাত্রা। জেলা শহরে যেতে পথেই ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল তাজা তিন প্রাণ। মুহূর্তেই নিভে গেল একটি সাজানো গোছানো সংসার। শুধু একটি পরিবার নয়, একই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একটি ওষুধ কোম্পানির মোটরসাইকেল আরোহী শওকত আলী লিখনও। শনিবার সকালে জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার বৈঠামারী বুরুঙ্গা এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কের মেলান্দহ উপজেলার বৈঠামারী বুরুঙ্গা এলাকায় ট্রাকের চাপায় একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন মারা গেছেন। তারা হলেন, ইসলামপুর উপজেলার ইন্দুল্লামারী গ্রামের মোরশেদ আলম (২৫), তার স্ত্রী ইকরামা বেগম (২৩) এবং তাদের আট মাস বয়সী শিশুকন্যা রিফা। অপর নিহত ব্যক্তি মেলান্দহ উপজেলার শাহজাদপুর গ্রামের শওকত আলী লিখন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন।

ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ফেরা হলো না বাবার: প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১০টার দিকে জামালপুরগামী একটি দ্রুতগতির ট্রাক বুরুঙ্গা এলাকা পার হওয়ার সময় প্রথমে একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। মোটরসাইকেল আরোহী শওকত আলী লিখন সড়কের পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে সামনে থাকা যাত্রীবাহী একটি ইজিবাইককে চাপা দেয়। ট্রাকের প্রচণ্ড আঘাতে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ইজিবাইকে থাকা একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও শিশু কন্যা মারা যান। আর ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান শওকত আলী লিখন।

দুর্ঘটনার পরপরই মেলান্দহ থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় হতাহতদের উদ্ধার করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পাঠানো হয় জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে।

নিহত শওকত আলী লিখনের ভাই হেলাল উদ্দিন আকন্দ জানান, লিখন সকালে তার ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার আগেই ঘাতক ট্রাক তার প্রাণ কেড়ে নেয়। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে শোকাহত স্বজনরা। শনিবার রাত ৯টায় পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাকের চাপায় মারা যান মোটরসাইকেল আরোহী শিক্ষক। শওকত আলী লিখন

অন্যদিকে, নিহত মোরশেদ আলমের পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী ও আট মাস বয়সী শিশুকন্যাকে নিয়ে জামালপুর শহরে কেনাকাটা করতে যাচ্ছিলেন মোরশেদ। পরিবারের জন্য কেনাকাটা করার সেই আনন্দ যাত্রা শেষ হয়েছে চিরবিদায়ে। যে শিশুটির দুচোখ খুলে পৃথিবী দেখারই সময় হয়নি, সেই শিশুটিও বাবা-মায়ের সঙ্গে চলে গেল না-ফেরার দেশে। একসঙ্গে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

মেলান্দহ থানার ওসি এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, পর পর দু’টি দুর্ঘটনার পর ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন চালক। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মেলান্দহের মালঞ্চ এলাকায় ট্রাকটি আটকে শান্ত নামের চালককে আটক করা হয়।

মেলান্দহ-মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি এজাহার পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে ট্রাক ও চালককে আটক করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।