গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিদের আহাজারি ফাইল ছবি: সংগৃহীত
নিঃশব্দ গভীর রাত। চারদিকে যখন ঘুমের রাজত্ব, ঠিক তখনই হঠাৎ গুলির বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে কুষ্টিয়া-র দৌলতপুরের মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় গ্রাম। মুহূর্তেই রাতের শান্তি ভেঙে নেমে আসে আতঙ্ক, আর সেই আতঙ্কের ভেতরেই রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন নারী-পুরুষসহ ১০ জন।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দুষ্কৃতকারীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম (৩৬)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত পাঠানো হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ। তিনি মরিচা ইউনিয়নের প্রবীণ বাসিন্দা মো. হাফেজ প্রামাণিকের ছেলে।

রবিউলের আর্তচিৎকার যেন রাতের আঁধার চিরে ছুটে যায় মানুষের হৃদয়ে। তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার মুহূর্তেই ছুটে আসেন আশপাশের মানুষ—কেউ আত্মীয়, কেউ প্রতিবেশী, কেউবা নিছক মানবিক টানে। কিন্তু সেই মানবিক ছুটে আসাই যেন কাল হয়ে দাঁড়ায়।
মুখোশধারী দুষ্কৃতকারীরা তখন আর দ্বিধা করেনি—ব্রাশফায়ার, শটগানের গর্জন আর গুলির ঝড় ছড়িয়ে দেয় চারদিকে। যেন মুহূর্তেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় নিস্তব্ধ গ্রামটি। গুলিবিদ্ধ হন সোহেল রানা (৪৫), তার স্ত্রী তমা খাতুন (২৬), কামরুল ইসলাম (৩৭), মুন্নি (২৪), রুনা খাতুন (২৭), মিতা খাতুন (৩০), তৌহিদুল ইসলাম (৩০) এবং তার স্ত্রী মেরিনা (২৫)। আহতদের আর্তনাদ আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে রাতের বাতাস।
স্থানীয়দের ধারণা, বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব থেকেই এই রক্তাক্ত হামলার সূত্রপাত। অন্ধকারে জমে থাকা সেই বিরোধ হঠাৎই বিস্ফোরিত হয়েছে গুলির ঝড়ে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তিনি আরও বলেন, এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাতের সেই আতঙ্ক এখনো কাটেনি পুরোপুরি। মাজদিয়াড় গ্রামের বাতাসে এখনো যেন ভাসছে গুলির শব্দ, আর মানুষের চোখে লেগে আছে এক প্রশ্ন—এই রক্তাক্ত রাতের শেষ কোথায়?
