বালু ভরাটে তিন ফসলি জমি নষ্টের দাবি, ইচ্ছাখালী খাল বন্ধে ২৪ গ্রামে জলাবদ্ধতার অভিযোগ। ফাইল ছবি
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কৃষিজমি ও বসতভিটায় অবৈধভাবে বালু ভরাট, রাস্তা নির্মাণ এবং স্থানীয়দের উচ্ছেদের পাঁয়তারা করার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল ভরাট করে দেওয়ার কারণে আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ভুক্তভোগী জমির মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি নিয়ে জটিলতার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ২০১০ সাল থেকে রূপগঞ্জ ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৭টি মৌজায় প্রায় ৭ হাজার বিঘা কৃষিজমি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি অধিগ্রহণ কিংবা জমির মালিকদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় বালু ভরাটের মাধ্যমে কৃষিজমি দখলের চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে স্থানীয়দের হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের নামে জমি ক্রয় না করেই বিভিন্ন স্থানে বালু ফেলে ভরাট এবং রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে তিন ফসলি কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও মৎস্যনির্ভর মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
ইচ্ছাখালী খাল ভরাট, ২৪ গ্রামে জলাবদ্ধতার অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় রূপগঞ্জের ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল। স্থানীয়দের দাবি, বালু দিয়ে খালটি ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের প্রায় ২৪টি গ্রামের মানুষ জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়েছেন।
খালটি থেকে বালু অপসারণ করে পুনঃখনন এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শতাধিক অভিযোগ, ইউএনও-ডিসির কাছে স্মারকলিপি
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জলসিঁড়ি প্রকল্পের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় শতাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা মোট নয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. জমি ক্রয় ছাড়া বালু ভরাট ও রাস্তা নির্মাণ বন্ধ করা।
২. ঐতিহাসিক ইচ্ছাখালী খাল পুনরুদ্ধার করা।
৩. আবাসন প্রকল্পের সীমানা (ডিমার্কেশন) প্রকাশ করা।
৪. ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত না করে উচ্ছেদ বন্ধ করা।
৫. বসতবাড়ি থেকে কমপক্ষে ৩০০ মিটার দূরে প্রকল্পের সীমানা নির্ধারণ করা।
৬. সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নই, বেআইনি দখলের বিরুদ্ধে।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা দেশের সম্মানিত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নই, আমরা জলসিঁড়ি প্রকল্পের কথিত বেআইনি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে।
তারা বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি ও জন্মভূমি রক্ষায় তারা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানিয়ে আসছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগের বিষয়ে জলসিঁড়ি প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
