ক্যানভাসে ফুটে উঠল দেশপ্রেম, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন। ছবি সংগৃহীত
রঙ-তুলির প্রতিটি আঁচড়ে যেন উঠে এলো বাংলাদেশের গল্প। কোথাও নদীর ছন্দ, কোথাও স্বাধীনতার গৌরব, আবার কোথাও সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন। শিশু-কিশোরদের কল্পনা আর সৃজনশীলতায় ক্যানভাস হয়ে উঠল দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধের এক অনন্য প্রকাশভূমি।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত ‘সম্প্রীতি ও স্বাধীনতা’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সেরা ১২ শিশু-কিশোরকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে নজরুল ইনস্টিটিউটে স্বাধীনতা সাংস্কৃতিক পরিষদ ও স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা। সকাল থেকেই শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণ। রঙের সঙ্গে স্বপ্ন ও কল্পনার মেলবন্ধনে তাদের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্বাধীনতা ও সম্প্রীতির নানা চিত্র।
দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে ছবি আঁকার আহ্বান
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী অধ্যাপক জামাল আহমেদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি ক্ষুদে শিল্পীদের দেশ ও মানুষকে ভালোবেসে ছবি আঁকার আহ্বান জানান।
জামাল আহমেদ বলেন, সুন্দর জীবন গড়তে হলে দেশের ইতিহাস ধারণ করতে হবে। সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা নিয়ে নিজেদের তৈরি করতে হবে।
তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা
. তিনটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
. শিশু শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি: বিষয়—‘আমাদের নদী’
. চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণি: বিষয়—‘স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি’
. অষ্টম থেকে দশম শ্রেণি: বিষয়—‘চেতনায় বাংলাদেশ’
. তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১২ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। . . . পাশাপাশি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিশু- কিশোরের হাতে তুলে দেওয়া হয় সনদপত্র।
. শিল্পচর্চায় ছড়িয়ে পড়ুক দেশপ্রেম ও সম্প্রীতির বার্তা
আয়োজকরা জানান, শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। তাঁদের বিশ্বাস, শিল্পচর্চার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা আরও গভীর হবে এবং সম্প্রীতি ও মানবিকতার মূল্যবোধ বিকশিত হবে।
এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় ১৩০ শিশু-কিশোর। প্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন চিত্রশিল্পী, কবি, শিল্প সমালোচক ও লেখক জাহিদ মুস্তাফা এবং শিল্পী সুনীল কুমার মালো।
অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা চারুশিল্পী পরিষদের আহ্বায়ক শিল্পী আশরাফুল আলম পপলু সভাপতিত্ব করেন। এ সময় সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এলবার্ট খান, সদস্য সচিব এস এম কামরুজ্জামান সাগরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
রঙের ক্যানভাসে শিশুদের আঁকা এসব ছবি শুধু প্রতিযোগিতার পুরস্কার পাওয়ার গল্প নয়—এ যেন নতুন প্রজন্মের চোখে বাংলাদেশকে দেখা, দেশপ্রেমকে অনুভব করা এবং সম্প্রীতির স্বপ্নকে রঙে রঙে ছড়িয়ে দেওয়ার এক প্রাণবন্ত আয়োজন।
