বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শাহ আলী মাজারে হামলা নিয়ে ক্ষোভে ফরহাদ মজহার: ‘লুটপাট আর হামলা চালিয়ে টিকে থাকা যাবে না

স্টাফ রিপোর্টার
মে ২০, ২০২৬ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রচিন্তক ও কবি ফরহাদ মজহার। তিনি অভিযোগ করেন, মাজারের মানতের টাকা লুটপাটের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন,
গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, শেখও এ দেশে টিকে থাকতে পারেননি। মাজারের টাকা লুটের চেষ্টা ও হামলা চালিয়ে আপনারাও টিকে থাকতে পারবেন না।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে আয়োজিত গণঅবস্থান ও ভাবগানের আসরে তিনি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাজারে হামলার প্রতিবাদে ‘সাধু-গুরু-ভক্ত ও ওলি-আওলিয়া আশেকান পরিষদ’ এবং ‘ভাববৈঠকী’ যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

ফরহাদ মজহার বলেন, মাজারে যে মানতের টাকা ওঠে, তা মূলত অসহায় ও পাগলদের হক। অথচ সেই অর্থ লুটে নেওয়ার জন্যই গাঁজা সেবনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি বলেন,
আমরা এখানে ভাবগান করি, আধ্যাত্মিক চর্চা করি। আমাদের ওপর আঘাত এলে আমরা চুপ করে থাকবো না। গোপনে হামলা হলে তারও জবাব দেওয়া হবে।

মাজারে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কাউকে সরাসরি দায়ী করেননি ফরহাদ মজহার। তবে তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম-এর সঙ্গে তার আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শাহ আলী মাজারকে কেন্দ্র করে ইজারাব্যবস্থার নামে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও লুটপাট চলছে। তার অভিযোগ, ১০ হাজার টাকায় দোকানের ইজারা নিয়ে পরে তা লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, ফলে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে, তেমনি ভক্তদের অর্থও একটি গোষ্ঠীর হাতে চলে যাচ্ছে।

ফরহাদ মজহার বলেন,
এই মাজার আমাদের। আমরা নিজেরাই এটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখবো। কিন্তু ইজারাদারদের নামে পাগল ও ভক্তদের টাকা লুট করতে দেওয়া হবে না।

মাজারের অনুসারী ও ভক্তদের উদ্দেশে তিনি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেউ যেন ‘গাঁজাখোর’ তকমা লাগিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির সুযোগ না পায়। একই সঙ্গে নিজেদের আচরণেও সংযম ও আদব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে মাজারের পাগলদের রক্ষা করতে হবে। ইজারাব্যবস্থা বন্ধ করতে হবে। মাজারে যা কিছু আসে, তা যেন এখানকার গরিব মানুষ পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা জায়েদ বিন নাসের-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গণঅবস্থানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, বাসদ (মার্কসবাদী)-এর কেন্দ্রীয় নেতা জসীম উদ্দিন, এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম, তাহমিনা শারমিন যুঁথি, শফিকুল ইসলাম রানা খান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম মিঠু, লেখক উদয় হাসান ও সাংবাদিক নাহিদুল ইসলামসহ অনেকে।

একই দিনে শাহ আলী মাজার প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও আশেকান মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলও করেন। আধাঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনের পর বিক্ষোভ মিছিলটি শাহ আলী এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

প্রতিবাদকারীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—
“শাহ আলী মাজারে হামলা কেন, জবাব চাই!
“ফকিরের গায়ে হামলা কেন, জবাব চাই!
“জঙ্গিবাদের আস্তানা, ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও!

মাজারে হামলার ঘটনাকে ঘিরে এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে এলাকায়। ভক্তদের দাবি, আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক চর্চার এই স্থানকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সহিংসতা বা লুটপাট বরদাশত করা হবে না।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।