রামিসা আক্তার নামের এই শিশুকে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ছবি-সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে গেল এক ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড। রামিসা আক্তার (৮) নামে এক শিশুকে নৃশংসভাবে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, হত্যার পর তার মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় নেমে আসে আতঙ্ক, শোক আর ক্ষোভের ছায়া।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে আটক করা হয়। এর আগেই তার স্ত্রী সম্পাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছিল। সোহেল-সম্পা দম্পতির ঘর থেকেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আটক সোহেল রানা। ছবি-সংগৃহীত
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারী আব্দুল হান্নান পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৭ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন। পাশের ফ্ল্যাটে তিনটি কক্ষে আলাদা তিন পরিবার বসবাস করত। এর একটি ঘরে থাকতেন সোহেল-সম্পা দম্পতি। প্রতিবেশী হওয়ায় রামিসার পরিবারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক ছিল।
মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে বাসায় না পেয়ে পরিবার খোঁজাখুঁজি শুরু করে। আশপাশে কোথাও না পেয়ে তারা সোহেলের বাসার দরজায় টোকা দেন। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ থাকলেও কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিষয়টি ৯৯৯-এ জানানো হয়।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ঘরে ঢুকেই তারা রক্তের চিহ্ন দেখতে পায়। পরে খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় শিশুটির মাথাবিহীন মরদেহ। তার শরীর ছিল বিবস্ত্র। আর ঘরের এক কোণায় রঙের খালি প্লাস্টিকের বালতির ভেতর পাওয়া যায় কাটা মাথা।
এ সময় সোহেলের স্ত্রী সম্পা রান্নাঘরে লুকিয়ে ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে আটক করা হয়। তবে এর আগেই পালিয়ে যান সোহেল। ফ্ল্যাটের বাকি দুটি কক্ষ তখন তালাবদ্ধ ছিল।
ঘটনার পর পল্লবী থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর ফরেনসিক ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে।
পল্লবী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এমদাদুল হক বলেন, শিশুটির শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। প্রথমে শরীরের অংশ পাওয়া যায়, পরে একটি বালতির ভেতরে মাথাটি উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সোহেল কৌশলে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। এরপর তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে শিশুটি পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল কিনা, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার জানান, লাশ উদ্ধারের পরপরই সোহেলকে আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করে। পরে সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিষ্পাপ এক শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সবদিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।
