নিহত শিক্ষিকা মরিয়ম বেগম। ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ স্থানীয়রা। প্রাইভেট পড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া গৃহশিক্ষিকা মরিয়ম বেগম (৫৫)-এর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে পৌর এলাকার নামোশংকরবাটি চৌকাপাড়ার একটি বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, স্বর্ণের কানের দুল লুট করতেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম বেগমের মাথা ও ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো—তার কানের দুল পরার অংশ ছেঁড়া অবস্থায় ছিল, যা হত্যার পেছনে লুটের ভয়াবহ ইঙ্গিত দিচ্ছে।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মরিয়ম বেগম চৌকাপাড়ার রুবেল নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে প্রাইভেট পড়াতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। উদ্বিগ্ন স্বজনরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরিবারের অভিযোগ, স্বর্ণালঙ্কারের লোভেই এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। একজন নিরীহ গৃহশিক্ষিকার জীবন এত নির্মমভাবে শেষ হয়ে যাবে—এমন কল্পনাও করেননি তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, সোমবার সকালে মরিয়ম বেগম রুবেল ও সুমি খাতুনের দুই সন্তানকে পড়াতে তাদের বাড়িতে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাতেই তার ছেলে থানায় জিডি করেন।
তিনি আরও জানান, ৯৯৯-এ ফোন করেছিলেন রুবেল নিজেই। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহের ভিত্তিতে রুবেল ও সুমি খাতুনকে আটক করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ এক স্বর্ণকারের কাছ থেকে মরিয়ম বেগমের স্বর্ণের দুটি কানের দুল উদ্ধার করেছে। অভিযোগ রয়েছে, সুমি খাতুন ওই দুল দুটি আগের দিন স্বর্ণকারের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই স্বর্ণকারকেও আটক করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে স্বজনদের আহাজারি, অন্যদিকে একজন শিক্ষিকার এমন করুণ মৃত্যু ঘিরে ক্ষোভ আর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
