“শ্রমিক মালিক ঐক্য গড়ি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি”—এই প্রতিপাদ্যের মায়াবী আহ্বানে কুষ্টিয়ার আকাশে ভেসে উঠল ঐক্যের রঙিন স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নের ভেতরেই ধ্বনিত হলো শ্রমের মর্যাদা আর নিরাপদ জীবনের অঙ্গীকার। সারা দেশের মতো কুষ্টিয়াতেও যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনায় পালিত হয়েছে মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি দিবস ২০২৬।
শুক্রবার (১ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয় এক বর্ণাঢ্য র্যালি। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন আর উদ্দীপ্ত স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ—যেন শ্রমের ঘামে ভেজা প্রতিটি গল্প আজ উৎসবের আলোয় ধরা দিল। র্যালিতে অংশ নেয় জেলা প্রশাসন, আলিঞ্চক শ্রম দপ্তর এবং কুষ্টিয়ার শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।

উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তারা।
র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়—যেন এক প্রতীকী যাত্রা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে উচ্চারিত হয় শ্রমিকের অধিকার, মর্যাদা আর নিরাপত্তার দাবি।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় এক আলোচনা সভা। কুষ্টিয়া আঞ্চলিক শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম বলেন, শ্রমিকের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করাই একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের মূল ভিত্তি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরকারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তারা শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং শ্রমিক-মালিক সুসম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সবশেষে আলিঞ্চক শ্রম দপ্তর ও কুষ্টিয়ার শ্রম কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন—যেন কথার ভেতর দিয়ে আরেকবার উচ্চারিত হয় প্রতিশ্রুতি, শ্রমিক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।
এই দিনের আবহে যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শ্রমিকের ঘামে গড়া প্রতিটি ইট, প্রতিটি স্বপ্ন, প্রতিটি ভবিষ্যৎই একদিন মিলিত হয়ে গড়ে তোলে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ আর ভালোবাসায় ভরা বাংলাদেশ।
