পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সফরের দাবি, বহরে ৭১ জন | মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর-ফিলিপাইন ঘুরে সৌদি আরবে ওমরাহ। লংমার্চ চলাকালে এমপিদের বিদেশযাত্রা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার। ছবি: এমপি শেখ মনজুরুল হক রাহাদের ফেসবুক থেকে নেওয়া
পারিবারিক ও ব্যক্তিগত সফরে বিদেশে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্য (এমপি)। বিশেষ এই সফরে এমপিদের সঙ্গে রয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যসহ মোট ৭১ জনের একটি প্রতিনিধিদল। ১৭ দিনের এই সফর ঘিরে এরই মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, ৩৪ এমপির মধ্যে অন্তত ২৫ থেকে ২৬ জন তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়েই বিদেশ সফরে গেছেন। তাদের সঙ্গে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান এবং বিশিষ্ট লেখক জিয়াউল হক।
সফরের প্রাপ্ত সূচি অনুযায়ী, গত ১৩ ও ১৪ সেপ্টেম্বর দুই দফায় প্রতিনিধিদলটির সদস্যরা প্রথম গন্তব্য মালয়েশিয়ায় পৌঁছান। সেখানে তিন দিন অবস্থানের পর ১৭ সেপ্টেম্বর তারা সিঙ্গাপুরে যান। এরপর সেখান থেকে তাদের ফিলিপাইন ভ্রমণের কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর সৌদি আরব যাওয়ার কথা রয়েছে প্রতিনিধিদলটির। সেখানে ওমরাহ পালন শেষে ফেরার পথে বাহরাইনে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবেন তারা। সব মিলিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিনিধিদলটির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
‘সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সফর’
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি সম্পূর্ণ পূর্বনির্ধারিত একটি সফর। এর সঙ্গে দলীয় বা রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচির সম্পৃক্ততা নেই। সংসদ সদস্যরা নিজস্ব অর্থায়নে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক উদ্যোগেই এই সফরে গেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘তারা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেড়াতে গিয়েছেন। যেহেতু বর্তমানে জাতীয় সংসদ অধিবেশন নেই, তাই সবাই আলাপ-আলোচনা করে একসঙ্গে ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নেন। এটি কোনো দলীয় বা রাষ্ট্রীয় সফর নয়, একান্তই তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সফর।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন দেশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি তারা প্রবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সৌজন্য মতবিনিময় করছেন। বিভিন্ন দেশের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যেই এই আয়োজন।
একসঙ্গে ৩৪ এমপি কেন?
একসঙ্গে জামায়াতের ৩৪ জন এমপির বিদেশ গমন প্রসঙ্গে জুবায়ের বলেন, সংসদ অধিবেশন না থাকায় সবাই পরামর্শ করে একত্রে গেছেন। এতে থাকা-খাওয়াসহ যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় নানা ধরনের সুবিধা হয়।
তবে একই সময়ে এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের একসঙ্গে বিদেশ সফরের বিষয়টি সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্নও উঠেছে। বিশেষ করে ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি চলমান থাকার সময় জামায়াতের ৩৪ এমপির বিদেশে অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লংমার্চ চলাকালে বিদেশে ৩৪ এমপি
আট দফা দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচি চলমান থাকা অবস্থায় দলের এতসংখ্যক সংসদ সদস্যের বিদেশে অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নেটিজেনদের একাংশ এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ সমালোচনার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জুবায়ের বলেন, ‘আমাদের সম্মানিত দলীয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিজে লংমার্চে ছিলেন। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমিরবৃন্দ এবং আমরা সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা সবাই মাঠে সক্রিয় ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের কি ব্যক্তিগত কাজ থাকতে পারে না? তারা নিজেদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনেই সফরে গেছেন, যা খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়। এটাকে যারা অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখছে, তারা মূলত অসুস্থ মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংসদ অধিবেশন না থাকায় এমপিদের এই সফর কোনো রাজনৈতিক বা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির অংশ নয়। নিজস্ব অর্থায়নে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পূর্বনির্ধারিত ব্যক্তিগত সফর হিসেবেই তারা তিন দেশ ভ্রমণ করছেন। তবে লংমার্চসহ দলটির চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যেই একসঙ্গে ৩৪ এমপির বিদেশযাত্রা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
