আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে সচেতনতার বার্তা। ছবি: সমতল মাতৃভূমি
কক্সবাজারে তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের সম্পৃক্ততায় দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতামূলক প্রচারণা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘Voices for Change Project’-এর আওতায় আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য র্যালিতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা এবং সম্মিলিতভাবে অনিয়ম প্রতিরোধের আহ্বান জানানো হয়।
সচেতনতামূলক প্রচারণায় তরুণদের অংশগ্রহণ
কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরির শহীদ সুভাষ হলে আয়োজিত আলোচনা সভার ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য জনাব লুৎফুর রহমান কাজলকে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উইমেন চেঞ্জ, চট্টগ্রাম কমিউনিটি অ্যান্ড ফাউন্ডেশনের সভাপতি জনাব জাহানারা ইসলাম।
ব্যানার অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে ছিল খান ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ সহযোগিতায় পাবলিক লাইব্রেরি, কক্সবাজার। কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা।
অনুষ্ঠানের প্রচারসামগ্রীতে উঠে আসে—‘তরুণ প্রজন্মের একই সুর, দুর্নীতিকে করব দূর’—এমন প্রত্যয়ী বার্তা। এর মধ্য দিয়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণ সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার পাশাপাশি সামাজিক অনিয়মের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
আলোচনা সভার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। তরুণ সমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ ধরনের কর্মসূচি নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্ল্যাকার্ডে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় বার্তা
এদিকে দুর্নীতিবিরোধী প্রচারণার অংশ হিসেবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালির আয়োজন করা হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। এসব ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান, সম্মিলিত প্রতিরোধ এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের নানা বার্তা তুলে ধরা হয়।
প্রচারাভিযানের একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল—‘ঘুষ দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই অপরাধ’। এর মাধ্যমে ঘুষ লেনদেন থেকে বিরত থাকা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
দুর্নীতিবিরোধী এ প্রচারণায় শুধু সচেতনতা তৈরিই নয়, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধে নাগরিকদের আইনসম্মত উপায়ে ভূমিকা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তরুণদের সামাজিক উদ্যোগে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উঠে আসে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এককালীন কর্মসূচির পাশাপাশি প্রয়োজন ধারাবাহিক সচেতনতা, দায়িত্বশীল নাগরিক অংশগ্রহণ এবং বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ। তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে।
