‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই’—প্ল্যাকার্ডে মাদকমুক্ত কুষ্টিয়ার দাবি। ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, হত্যা-নির্যাতন ও মাদকের বিস্তারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুষ্টিয়া সদর উপজেলা শাখা। মানববন্ধন থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ, মাদক নির্মূলে কঠোর অভিযান এবং ধর্ষণ-খুনসহ অপরাধ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও দেশকে মাদকমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের পদত্যাগের দাবিও জানান বক্তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ের (শহীদ চত্বর) সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামানের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা ও এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শোয়েব রায়ান। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন সদর উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব সৈকত।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মুনিব আলী, জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল আরেফিন স্টালিন, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, জেলা ছাত্র শক্তির সদস্য সচিব সোলেমান হোসেন অন্তরসহ দলীয় নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষ।
মানববন্ধনে জেলা এনসিপির সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, দেশে শিশুদের অপহরণ করা হচ্ছে। মেয়ে শিশুদের ওপর নির্যাতন করে হত্যা করা হচ্ছে। ২০২৪-পরবর্তী সময়ে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকদের সুশাসনের জন্য এটি লজ্জাজনক ও ভয়ংকর অধ্যায়।
তিনি বলেন, ‘২০২৪ বাংলাদেশে এসেছিল অন্যায়, অত্যাচার ও জুলুমের প্রতিবাদে। সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছিল। এরপরও সেই জুলুম আবার যদি বাংলাদেশে চেপে বসে, তাহলে ২০২৪ আবারও বাংলাদেশে নেমে আসবে।
বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, আমলা ও প্রশাসনের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পা চাটা করে যদি এ দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মাদকের বিস্তার চলতে থাকে, তাহলে আগামীতে ২০২৪-এর মতো অবস্থা নেমে এলে আমলাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে আজ আমার, কাল আপনার সন্তান একের পর এক নির্যাতন, খুন ও গুমের শিকার হবে। সচেতন মহলের উদ্দেশে তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।
এনসিপি সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব সৈকত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আপনি সালাউদ্দিনের কথার ওপর ভিত্তি করে দেশ পরিচালনা করছেন। দুদিন পরে আপনার অবস্থা খুবই করুণ হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কিছু বললে বলবেন—ওই দেখো শিক্ষিত সমাজ কী বলছে। আপনি আমাদের একটা শিক্ষিত সমাজ দেন। তারেক রহমান, আপনি তো সংসদে শুধু নীরব ভূমিকা পালন করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন কথা বলেন, আর আপনি সেই কথার বিবেচনা না করে সাই দেন।
তিনি আরও বলেন, আপনার মন্ত্রী খাম্বার তার অনেক বড় বলে সে জন্য বিদ্যুৎ থাকে না। এটাতে কিভাবে সাই দেন? সালাউদ্দিন লেখাপড়া শিখেছে রয়ের কাছ থেকে। সংবিধানের যে কথা উনি বলেন, সেটা রয়ের শেখানো কথা। ২০২৪-এ সরকার পতন হয়ে গেছে, তুমি এই সংবিধানের কথা বলবে—বাকিটুকু আমরা দেখছি।
দেশকে বাঁচাতে দ্রুত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনকে পদত্যাগ করানোর দাবি জানান তিনি।
সদর উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের বোন তমা, ১৭ বছর বয়স, তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। একটি আইফোনের জন্য শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। মারিয়াম, রামিসাসহ অনেককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এর কোনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি।
তিনি বলেন, কোনো ভালো কাজ বা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে রাজনীতি করা লাগে না। সচেতন নাগরিক হিসেবে প্রতিবাদ করা যায়। সাংবাদিকরা যে সব তথ্য তুলে ধরে, মাদকের ছয়লাভ—এসব প্রশাসন দেখে না?’
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন, কামরুন্নাহার কলি নিহত হওয়ার পরে যে জড়িত, তার বাড়িটা জনগণ ভেঙে দিয়েছে। আমরা চাই না জনগণ আইন নিজের হাতে তুলে নিক।
বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন দেখেছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পাবনার মোস্তফার বাড়ি কিন্তু বাড়ি নেই, সেটা ভেঙে ফেলেছে। মানুষকে অতীত থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
এদিকে মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বিভিন্নজনের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ, কামরুন্নাহার কলি, অপ্রতিম, মারিয়াম, রামিসা, রাফিসহ যাদের ওপর নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে তাদের হত্যার বিচার এবং মাদকমুক্ত কুষ্টিয়ার দাবি জানানো হয়।
প্ল্যাকার্ডে আরও লেখা ছিল—‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দুই নয়ন মাদকের উন্নয়ন’, মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ি, সুন্দর সমাজ গড়ি’, ‘মাদকমুক্ত কুষ্টিয়া চাই’, ‘তারুণ্য হোক শক্তি, মাদক হোক পরাজিত’, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোল, সমাজটাকে রক্ষা করো’, ‘মাদক ব্যবসা বন্ধ করো, তরুণ সমাজ রক্ষা করো’ এবং ‘মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগ চাই’।
