বৃহস্পতিবার, ৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৬ বছরের ‘অঘোষিত সাম্রাজ্য’ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ হাফিজ চক্রের দাপট—সোনা পাচার থেকে নারী কেলেঙ্কারি, অভিযোগের পাহাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ৭, ২০২৬ ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সিলেটের আকাশপথ যেন এক অদৃশ্য সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে—আর সেই সাম্রাজ্যের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবে আলোচনায় বিমানবন্দরের ম্যানেজার কাম পরিচালক হাফিজ আহমেদ। মাত্র এক মাসের জন্য দায়িত্ব পেয়ে শুরু করা যাত্রা, অথচ পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ১৬ বছর! নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি যেন গড়ে তুলেছেন নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য।

অভিযোগ উঠেছে, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-কে তিনি কার্যত ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত করেছেন। একের পর এক বদলির আদেশ এলেও রহস্যজনকভাবে তা থেমে যায়—উচ্চপর্যায়ের তদবিরে থেকে যান আগের জায়গাতেই। আর এই দীর্ঘ সময়েই নাকি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে তার বিত্তের পাহাড়—ঢাকায় একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাট, বিদেশে সম্পদের গুঞ্জন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে ‘বেনামি’ সম্পত্তির কথাও শোনা যায়।

সিন্ডিকেটের অন্ধকার জালে বন্দি নিরপেক্ষ ও যোগ্যকর্মী-
বিমানবন্দরজুড়ে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট—যেখানে রয়েছেন জসিম উদ্দিন, শাহেদ আহমদ, তরিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে। অভিযোগ, এই চক্রের হাত ধরেই চলে সোনা পাচার, ডলার-রুপি কারবার, এমনকি সন্দেহজনক লাগেজ পারাপার। লন্ডন-দুবাই রুটের ফ্লাইটগুলো যেন হয়ে উঠেছে তাদের ‘বিশেষ করিডোর’।

ক্ষমতার দাপট, ভয়ের রাজত্ব-শুধু দুর্নীতিই নয়—ভেতরে ভেতরে চলে ভয় আর নির্যাতনের সংস্কৃতি। কর্মচারীদের মারধর, প্রতিবাদ করলেই শাস্তি—এমন অভিযোগ এখন ওপেন সিক্রেট। এক আনসার সদস্যকে মারধরের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল সহকর্মীরা, যদিও তদন্তের ফল আজও অজানা। এ তদন্ত রিপোর্ট কি আলোর মুখ দেখতে পাবে এমনটাই ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতির রঙ বদলে টিকে থাকাই ছিল কৌশল।আর এ কৌশলে হেরে যায় মানবতা। তবু প্রশ্ন রয়ে যায়। সময় বদলেছে, সরকার বদলেছে—কিন্তু হাফিজ আহমেদের অবস্থান অটুট। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছেন রাজনৈতিক পরিচয়ও। একসময় ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ, এখন আবার নতুন প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় থাকার চেষ্টা—এ যেন এক কৌশলী টিকে থাকার রোমান্টিক গল্প।

অভিযোগের তালিকা যেন শেষ হয় না-ঠিকাদারি কাজে অনিয়ম, কাজ না করেই বিল উত্তোলন, জ্বালানি তেল চুরি, গাড়ি মেরামতে ভুয়া বিল, দোকান বরাদ্দে দুর্নীতি, ডিউটি ফ্রি শপে অনিয়ম—সবকিছুতেই তার নাম ঘুরে ফিরে উঠে আসে। এমনকি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও রয়েছে নানা গুঞ্জন—গভীর রাতে রেস্ট হাউসে বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে চলছে ফিসফাস। তবে প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে ?

একাধিক তদন্ত কমিটি, গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট—সবই নাকি জমা পড়েছে। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সবাই জানে, কিন্তু কেউ কিছু বলে না—কারণ বললেই বিপদ।

হাফিজের বক্তব্য-তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাফিজ আহমেদ। তার দাবি, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি দোষী প্রমাণিত হলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে।

১৬ বছরের এই ‘অদৃশ্য শাসন’ শুধু একটি বিমানবন্দর নয়—প্রশাসনিক জবাবদিহিতার প্রশ্নও তুলে দিচ্ছে। প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন এমন অভিযোগের ভার বইবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর?

উল্লেখ্য যে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রক্ষায় প্রয়োজন একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি। তাহলে বেড়িয়ে হাফিজের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আদ্যোপান্ত। তবে সংশ্লিষ্টরা তাকিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।