সোমবার, ২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

(৩য় পর্ব) গণপূর্তে ৫ কোটি টাকার ভুয়া বিলের অভিযোগ, এবার ঢাকা মেডিকেলের ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রকৌশলী মাসুদ রানার নজর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ১, ২০২৬ ৯:২০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

দেড় শতাধিক ওটিএম টেন্ডার আইডি ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ, আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া থেকে সরকারি অর্থ আত্মসাতের নানা অভিযোগ; বিতর্কিত লটারিতে গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন, গণপূর্তে বাড়ছে অসন্তোষ। মাসুদ রানা। ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গণপূর্তের বিভিন্ন প্রকল্পে ভুয়া বিল-ভাউচার, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের একাধিক অভিযোগের পর এবার তাঁর নজর ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে—এমন অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের দাবি, অতীতের বিতর্ক ও অভিযোগের নিষ্পত্তি না হতেই গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পে তাঁর পদায়ন নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অর্থের ব্যবস্থাপনা, টেন্ডার প্রক্রিয়া এবং বিল পরিশোধে অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিয়েছেন প্রকৌশলী মাসুদ রানা। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ৫ কোটি টাকার ভুয়া বিলের অভিযোগসহ বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও পাবনায় নামে-বেনামে শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বিভিন্ন দপ্তরে জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত প্রকৌশলীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতার পালাবদলেও অক্ষুণ্ন অবস্থান, এবার মেডিকেল কলেজ গণপূর্তে

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ২৭তম বিসিএস (গণপূর্ত ক্যাডার) কর্মকর্তা মাসুদ রানা দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর ধরে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও লোভনীয় বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন। ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যেও তাঁর অবস্থান অক্ষুণ্ন থাকা নিয়ে প্রকৌশলী মহলে নানা আলোচনা রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে আত্মীয়তার পরিচয় এবং বিগত সরকারের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন অনিয়মের সুযোগ পেয়েছেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরও নতুন মহলের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি নিজের অবস্থান ধরে রাখেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

সম্প্রতি বিতর্কিত লটারি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে তাঁর পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের নিষ্পত্তি না করেই এমন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

দেড় শতাধিক ওটিএম টেন্ডার আইডি ঘিরে প্রশ্ন

শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-৩, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী ঠিকাদারদের অনুকূলে ওটিএম (Open Tendering Method) পদ্ধতিতে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ ধরনের দেড় শতাধিক ওটিএম টেন্ডার আইডির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এসব আইডির মধ্যে রয়েছে—

১৩১২৮৬৩, ১৩১৩০৩৫, ১৩১২৭৫৪, ১৩১২৮৭৭, ১৩১২৮১৫, ১২৯৫৬৪৪, ১২৯৫৬৫১, ১২৮৪৫৮৯, ১২৮৪৩৯৭, ১২৪৭৯৭১, ১২৮২৩৪৮, ১২৮৩৭৫১, ১২৮৩২৩৯, ১২৮২২৯৭, ১২৭৫৬৩৮, ১২৮২৩৫০, ১২৮২২৫৩, ১২৮১১৭৪, ১২৮২৩৩০, ১২৮২১৩৩, ১২৭৫৫৭০, ১২৮৩৩৭৭, ১২৭৫২৬৯, ১২৭৫৬৩২, ১২৭৫৪৭৮, ১২৮৪৫৯৭, ১২৮৪৬৫৮, ১২৮৩৫৬৮, ১২৮৩৭২০, ১২৭৫৪০২, ১২৭৫৫২৮, ১২৮৪৭৭৩, ১২৭৫৪২৯, ১২৭৪৩৯৯, ১২৮৪৭৯০, ১২৭৫৬১২, ১২৭৮৬৩২, ১২৭২৮৪২, ১২৭২৮১৮, ১২৭২৭৭৭, ১২৭২৮৩৩, ১২৭২৭২৩, ১২৪৪৪৬১, ১২৫২৮৯৮, ১২৫২৭৫৪, ১২৫২৯২৯, ১২৪৭৯৮৯, ১২৪৮০০৪, ১২৫২৭২৩, ১২৩৬০৭৫, ১১২৫১৩০, ১১২৫১২২, ১১২৫০৭৬, ১১২০৯১৪, ১১১৭১১৯, ১১১৪৯৮৪, ১১০৪৮৪১, ১০৯৯৯৪৭, ১০৯০৬০৭, ১০৭০৫১২, ১১২৪৯১৫, ১০৮৮৯০৬, ১০৯৩৪০৬, ১০৯৩৩৮৮, ১০৯২৩২৭, ১০৯২২৫৪, ১০৯২২০৭, ১০৯১৭৫০, ১০৯১৭২৭, ১০৯১৬৫৭, ১০৯৪৭৩৭, ১০৯৪৭৫৬, ১০৯৪৭৭৪, ১০৯৪৭৭০, ১০৯৪৭৬১, ১০৩৫৯১০, ১০৩৫৯৩৩, ১০৩৫৯৮৯, ১০৩৬১২৯, ১০৩৬১৪৬, ১০৩৬৪১৫, ১০৩৬৯৫৮ ও ১০৩৭১৩৪।

অভিযোগকারীদের দাবি, তালিকাভুক্ত আইডিগুলোসহ আরও শতাধিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হলে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার চিত্র সামনে আসতে পারে। তবে এসব টেন্ডারের প্রতিটিতে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, দরপত্র মূল্যায়ন প্রতিবেদন ও কার্যাদেশ যাচাই করা প্রয়োজন।

এনবিআর ভবনের নির্মাণসামগ্রী লোপাটের অভিযোগ

২০১৯ সালে জিকে শামীম গ্রেপ্তারের পর শেরেবাংলা নগরে এনবিআর ভবনের গুদামে থাকা প্রায় অর্ধশত কোটি টাকার নির্মাণসামগ্রী ও বৈদ্যুতিক ক্যাবল লোপাটের অভিযোগও রয়েছে প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গুদামে সংরক্ষিত সরকারি মালামালের যথাযথ হিসাব ও ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। এসব মালামালের প্রকৃত পরিমাণ, ব্যবহার, সরবরাহ ও সংরক্ষণসংক্রান্ত নথি যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে হাইকোর্ট, বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও মুগদা হাসপাতালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় কাজের নামে-বেনামে বিল দেখানো এবং কন্টিনজেন্সি খাতের প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পের ব্যয়, বাস্তব কাজের পরিমাণ এবং বিল-ভাউচারের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অনুমোদিত প্রাক্কলন, কাজের পরিমাপ বই (এমবি), বিল ও ভাউচার পরীক্ষা করে প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ভাগ্নিজামাইয়ের প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার অভিযোগ

প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতি ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের অভ্যন্তরীণ রংকরণের একটি টেন্ডারে (আইডি নম্বর ১০৩৫৯৮৯) যোগ্যতম প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ‘হোসেন এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি তাঁর ভাগ্নিজামাইয়ের বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকৌশলী মাসুদ রানার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, কার্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করা জরুরি।

একইভাবে শেরেবাংলা নগরে এনবিআর ভবনের বিভিন্ন সংস্কার ও অভ্যন্তরীণ কাজের নামে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেট্রোফিটিং ও অভ্যন্তরীণ সড়ক সংস্কারের ১৮ কোটি টাকার কাজে প্রাক্কলন দ্বিগুণ দেখিয়ে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগকারীদের মতে, এসব কাজের অনুমোদিত ব্যয়, বাস্তবায়িত কাজের পরিমাণ ও পরিশোধিত বিলের মধ্যে অসংগতি রয়েছে। তবে প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কারিগরি ও আর্থিক নিরীক্ষা প্রয়োজন।

আন্দোলন দমনে আর্থিক সহায়তার অভিযোগও রয়েছে

সাধারণ ঠিকাদার ও সচেতন মহলের একাংশের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন দমনে আর্থিক সহায়তা জোগানোর অভিযোগও রয়েছে প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে।

এ ছাড়া দুদক ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও পাবনায় শতকোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ জমা পড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন বা বিচারিক সিদ্ধান্তের তথ্য এখানে উপস্থাপিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

পিপিএ-পিপিআরের বিধান মানা হয়েছে কি না, প্রশ্ন

সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট (পিপিএ) এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, প্রকৌশলী মাসুদ রানার দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এসব বিধানের ব্যত্যয় ঘটেছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, দরপত্র মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্ব এবং প্রাক্কলন ও বিলের মধ্যে অসংগতির অভিযোগ রয়েছে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট টেন্ডারে পিপিএ বা পিপিআরের কোন বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট দরপত্রের পূর্ণাঙ্গ নথি ও মূল্যায়ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

হাতিরঝিল-রামপুরা-ডেমরা প্রকল্পেও অতিরিক্ত মূল্য দেখানোর অভিযোগ

২০২৩ সালের জুনে হাতিরঝিল-রামপুরা-ডেমরা মহাসড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা জমির স্থাপনার মূল্য প্রকৃত মূল্যের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি দেখিয়ে অর্ধশতাধিক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল।

অভিযোগসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ, ক্ষতিপূরণের হিসাব, মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন এবং অর্থ পরিশোধের নথি যাচাই করা জরুরি।

অতীতের অভিযোগের নিষ্পত্তি ছাড়াই ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পে পদায়ন

গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রকৌশলী মাসুদ রানার মেডিকেল কলেজ গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন নিয়ে এখন নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, অতীতের অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি না করেই তাঁকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ঢাকা মেডিকেল কলেজ উন্নয়ন প্রকল্পের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও দরপত্র প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে স্বাধীন তদন্ত, আর্থিক নিরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের নথি যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে।

‘মাসুদ রানা কার আত্মীয়’—প্রশ্নের পরও নীরবতা

ইতোপূর্বে ‘মাসুদ রানা কার আত্মীয়’ শিরোনামে একাধিক অনলাইন পোর্টালে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অভিযোগকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিতর্ক ও অভিযোগের মধ্যে থেকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সাম্প্রতিক বিতর্কিত লটারি প্রক্রিয়ায় পদায়ন পাওয়ার পর তাঁর অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে।

তবে এসব আলোচনা ও অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত এবং অভিযুক্তের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্য পাওয়া যায়নি

প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ রানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

তাঁদের মতে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে প্রকল্পের অনুমোদিত ব্যয়, দরপত্র প্রক্রিয়া, কার্যাদেশ, বাস্তবায়িত কাজের পরিমাণ ও বিল-ভাউচার নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

প্রকৌশলী মাসুদ রানার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে দুদক ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাঁকে দায়মুক্তি দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সরকারি অর্থের সুরক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্পের স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তিই এখন সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।