দক্ষিণ আফ্রিকাক ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে মেক্সিকো। ছবি: এএফপি
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ‘মেক্সিকান ওয়েভ’ দিয়ে ফুটবল দুনিয়ায় আলোড়ন তুলেছিল অন্যতম সহ-আয়োজক মেক্সিকো। আর টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে সেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ল মাঠের পারফরম্যান্সেও। গ্যালারির ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবলের ঝড় তুলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দারুণ সূচনা করেছে স্বাগতিকরা।
বৃহস্পতিবার রাতে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে মেক্সিকোর হয়ে দুই অর্ধে গোল করেন জুলিয়ান কুইনোনেস ও রাউল জিমিনেস। তবে জয় যতটা আলোচিত, তার চেয়েও বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে ম্যাচের তিনটি লাল কার্ড। বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে উদ্বোধনী ম্যাচে এতগুলো লাল কার্ড এই প্রথম দেখা গেল।
দক্ষিণ আফ্রিকার দুই খেলোয়াড় এবং মেক্সিকোর একজন খেলোয়াড় ম্যাচ থেকে বহিষ্কৃত হন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোল। ম্যাচের প্রথম গোল হজমের পেছনেও ছিল তাঁর ভুল। নির্ধারিত সময়ের আট মিনিট আগে লাল কার্ড দেখেন থেম্বা জাওয়ানে। অন্যদিকে যোগ করা সময়ে খুলিসো মুদাউকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর ডিফেন্ডার সিজার মন্তেস।
শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল মেক্সিকোর হাতে। বলের দখল, আক্রমণের তীব্রতা এবং সুযোগ সৃষ্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেকটাই ছাপিয়ে যায় জাভিয়ের আগুইরের শিষ্যরা। পুরো ম্যাচে ১৬টি শট নেয় মেক্সিকো, যার চারটি ছিল লক্ষ্যভেদী। বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকা শট নিতে পারে মাত্র তিনটি।
ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল মেক্সিকো। ডানপ্রান্ত থেকে ইসরায়েল রেয়েসের নিখুঁত ক্রসে রাউল জিমিনেসের শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক উইলিয়ামস।
তবে গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাগতিকদের। নবম মিনিটেই গ্যালারিতে উল্লাসের বিস্ফোরণ ঘটান জুলিয়ান কুইনোনেস। দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের ভুলে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর প্রথম গোলের মালিক হন ২৯ বছর বয়সী এই লেফট উইঙ্গার।
ঘটনার শুরু গোলরক্ষকের পাস থেকে। বল পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান মিডফিল্ডার সিথোল। লুইস লিরার চাপে পড়ে বল হারালে সেটি পেয়ে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান কুইনোনেস।
গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে মেক্সিকো। ১৯ মিনিটে কুইনোনেসের আরেকটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়। একবার তাঁর শট পোস্টে লেগেও ফিরে আসে। প্রথমার্ধের শেষ পাঁচ মিনিটে একের পর এক সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। ফলে ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় তারা।
বিরতির পরও একই চিত্র। মেক্সিকোর লাগাতার আক্রমণে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪৯ মিনিটে গুতিয়েরেজকে বিপজ্জনক ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন সিথোল। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর আফ্রিকানদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
সংখ্যাগত সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ৬৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে মেক্সিকো। রবার্তো আলভারাদোর চমৎকার ক্রসে উড়ন্ত হেডে বল জালে পাঠিয়ে স্বাগতিকদের স্বস্তি এনে দেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল জিমিনেস।
ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয়তা আরও বাড়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণের সময় আলভারাদো মাটিতে পড়ে গেলে রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে দেন। পরে ভিএআর-এর সহায়তায় রিপ্লে দেখে থেম্বা জাওয়ানেকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান তিনি।
শেষ মুহূর্তে মেক্সিকোর সিজার মন্তেসও লাল কার্ড দেখলেও ততক্ষণে জয় নিশ্চিত হয়ে গেছে। তিন লাল কার্ড, অসংখ্য আক্রমণ আর দর্শকদের উন্মাদনায় ভরা উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল।
