শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ওসির বিরুদ্ধে ‘বিয়ের আশ্বাসে’ তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

গাজীপুর প্রতিনিধি
নভেম্বর ৭, ২০২৬ ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

কোনাবাড়ী থানা। ফাইল ছবি

বিয়ের আশ্বাসে’ এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী থানার ওসি ইফতেখার হোসেনের বিরুদ্ধে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী। অভিযোগে সোহেল নামে ওসির এক সহযোগীর নামও রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের আরও অভিযোগ, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ওসি ও তার লোকজন হুমকি দিচ্ছেন। এতে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

এদিকে অভিযোগ দেওয়ার প্রায় দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

অভিযোগে ওই তরুণী জানান, প্রায় দেড় বছর আগে ওসি ইফতেখার হোসেন কাশিমপুর থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় ওই তরুণী ব্যক্তিগত অভিযোগ নিয়ে কাশিমপুর থানায় যান। সেই সুযোগে ওসি ইফতেখার হোসেন তার (ভুক্তভোগীর) মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সম্পর্ক চলাকালীন ওসি ইফতেখার হোসেন নিজেকে অবিবাহিত দাবি করেন এবং ওই তরুণীকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, দীর্ঘদিন ওসি ইফতেখার হোসেন তার বন্ধু সোহেলের বাসায় আমাকে নিয়ে যেতেন এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক করতেন। ওসি ইফতেখারের এ অপরাধের সঙ্গে সোহেল সরাসরি জড়িত। সোহেল আমাকে নিয়মিত ওসির সঙ্গে দেখা করানোর জন্য নিয়ে যেত এবং ওসির জন্য তার নিজের বাসাকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করতে দিতো। পরবর্তীতে বিয়ের জন্য চাপ দিলে, ওসি ইফতেখার আমাকে ৫ বছর অপেক্ষা করতে বলেন। পরে সর্বশেষ বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান।

অভিযোগে ওই তরুণী বলেন, এ ঘটনা জানার পর ওসি ইফতেখার হোসেনের বাবা আমাকে ফোন করে পরিবারের চরম আর্থিক অসচ্ছলতা নিয়ে কটূক্তি ও অপমান করেন। ওসির বাবার এই দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় ওসি ইফতেখার নিজে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। গত ১১ সেপ্টেম্বর ওসি ইফতেখার হোসেন ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার বন্ধু সোহেল এবং তার কথিত এক আঙ্কেলকে আমার বাসায় পাঠান। এ সময় তারা আমাকে চরম ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার মোবাইল কেড়ে নিয়ে ওসির বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত কল রেকর্ড ও মেসেজ ডিলিট করে দেন। ওসি ইফতেখার এবং তার সহযোগী সোহেল ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেকোনো সময় আমার ও পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেন। এ ছাড়া মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েও দিতে পারেন। ওসি আমার মা-বাবাকে বার্তা পাঠান যেন আমাকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয় এবং সে (ওসি) বিয়ের জন্য কিছু টাকা দেবে।

ভুক্তভোগী তরুণী আরও বলেন, কমিশনারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ওসি ইফতেখার হোসেন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছেন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন। বাসা থেকেও বের হতে পারছি না তাদের ভয়ে। আমি এর বিচার চাই।

ওসি ইফতেখার হোসেন এবং সোহেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান ওই ভুক্তভোগী তরুণী।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওসি মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, এগুলো সব কথা মিথ্যা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. তাহেরুল হক চৌহান বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি। এটা তদন্তে আছে। অভিযোগ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করা আছে, তিনি তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।