প্রতীকী ছবি
ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে ছিল এক শিশুর কান্না। সেই কান্নাই যেন ডেকে আনল অমানবিক এক পরিণতি। বাচ্চা কাঁদে কেন? কান্না থামাও, না হলে মেরে ফেলবো—এই নির্মম হুমকির পর মুহূর্তেই ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। মায়ের চোখের সামনেই সৎবাবার হাতে থেমে গেল মাত্র তিন মাস বয়সী শিশুটির শ্বাস।
শুক্রবার ভোরে রাজধানীর দারুস সালাম থানার বর্ধনবাড়ী এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিশুটির মা রাজিয়া খাতুন তার স্বামী অপূর্বর (২২) বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে। পরে একই দিন তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাজিয়া খাতুনের প্রথম স্বামীর ঘরে দুটি সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে সাভারে নানীর কাছে থাকলেও তিন মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে সপ্তাহখানেক আগে অপূর্বর সঙ্গে দ্বিতীয়বারের মতো সংসার শুরু করেন তিনি। এটি অপূর্বর প্রথম বিয়ে। তারা বর্ধনবাড়ী এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্থানীয়দের দাবি, অপূর্বর বিরুদ্ধে মাদকাসক্তি ও খুচরা মাদক বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
দারুস সালাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম জাকারিয়া জানান, ঘটনার সময় শিশুটি মায়ের পাশে শুয়ে কান্না করছিল। কান্নার শব্দে ঘুম ভেঙে যায় অপূর্বর। বিরক্ত হয়ে তিনি স্ত্রীকে শিশুকে চুপ করাতে বলেন এবং হুমকি দেন কান্না না থামলে তাকে মেরে ফেলবেন। কিন্তু নিষ্পাপ শিশুর কান্না থামেনি—আর সেই কান্নাই যেন তার জীবনের শেষ শব্দ হয়ে ওঠে।
একপর্যায়ে অপূর্ব নিজের হাত দিয়ে শিশুটির মুখ চেপে ধরেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দম বন্ধ হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।
শিশুটির মায়ের হৃদয়বিদারক চিৎকারে ছুটে আসে প্রতিবেশীরা। তারা অভিযুক্ত অপূর্বরকে আটক করে থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে। নিহত শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
একটি নতুন সংসারের স্বপ্ন, এক মায়ের বুকভরা ভালোবাসা—সবকিছুই ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি নিষ্ঠুর মুহূর্তে। শিশুর সেই শেষ কান্না যেন আজও বাতাসে ভেসে বেড়ায়, প্রশ্ন তোলে—কতটা নিষ্ঠুর হলে কেউ এভাবে থামিয়ে দিতে পারে এক নবজাতকের জীবন?
