মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার অভিনব কৌশল নিয়েছিলেন এক মোটরসাইকেলচালক। নম্বরপ্লেটের কয়েকটি ডিজিট সাদা স্কচটেপ দিয়ে ঢেকে রাজধানীর সড়কে নির্বিঘ্নে চলাচলের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তবে প্রযুক্তির চোখ এড়িয়ে যেতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত তাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
আদালতে হাজির করার পর ওই ব্যক্তিকে এক মাসের কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান।
তিনি জানান, গত ১৯ মে এক মোটরসাইকেলচালক নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট সাদা স্কচটেপ দিয়ে আড়াল করে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে চলাচল করেন। পরে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২১ মে ঘটনাটি ডিএমপির নজরে আসে।
আনিছুর রহমান বলেন, বিষয়টি সামনে আসার পর পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কারণ এ ধরনের প্রতারণামূলক কৌশল অন্যদেরও আইন ভাঙতে উৎসাহিত করতে পারে। তাই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়।
তদন্তের শুরুতে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মোটরসাইকেলচালককে শনাক্ত করা। ছবিতে তার মুখ স্পষ্ট দেখা না যাওয়ায় পরিচয় নিশ্চিত করা সহজ ছিল না। এরপর ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সহায়তায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের ধরন ও নম্বরপ্লেটের তথ্য যাচাই করে চালানো হয় ব্যাপক অনুসন্ধান।
অবশেষে ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে গত সোমবার ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম লাবলু হক। তিনি রাজধানীর লালবাগ এলাকার বাসিন্দা।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আরও বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য কাউকে শাস্তি দেওয়া নয়; বরং মানুষকে সচেতন করা এবং সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইন মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করা। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল—প্রযুক্তিকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা যতই অভিনব হোক না কেন, আইন ও প্রযুক্তির সম্মিলিত নজরদারি থেকে শেষ পর্যন্ত রেহাই মেলা কঠিন।
