বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বদরুল আলম খান ? টেন্ডার সিন্ডিকেট, সম্পদের পাহাড় ও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ 

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ২৯, ২০২৬ ৩:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে বদরুল আলম খান ? টেন্ডার সিন্ডিকেট, সম্পদের পাহাড় ও ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ। ফাইল ছবি

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করেছেন কয়েকজন ঠিকাদার ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তা।

অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাব খাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে আসছেন। তাদের ভাষ্য, তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি নির্মাণকাজে প্রভাব বিস্তার করছে।

বদরুল এর অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি

প্রধান প্রকৌশলী পরিবর্তনের পর বেড়েছে প্রভাব ?

অভিযোগে বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে পরিবর্তনের পর বদরুল আলম খানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উপেক্ষা করে মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তার সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

কয়েকজন কর্মকর্তার অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি তৎকালীন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং ভোলায় কর্মরত অবস্থায় সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের ঘনিষ্ঠ পরিচয় ব্যবহার করে নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করতেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও নতুন ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে নিজের প্রভাব অক্ষুণ্ন রেখেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বদরুল এর প্রথম স্ত্রী ও নব্য প্রেমিকা রোমান্টিক মূহূর্তের

টেন্ডারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ৷ : ঠিকাদারদের অভিযোগ, বর্তমানে ভোলা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার কয়েকজন ঠিকাদারকে নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, কুমিল্লার একটি টেন্ডারে ভুয়া সনদধারী ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে চাপ দেওয়া হয়। একইভাবে ‘আসিফ’ নামে এক ঠিকাদারকে পুলিশের বিভিন্ন থানা ভবনসহ একাধিক প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার তদবিরের অভিযোগও রয়েছে।

এছাড়া মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে অন্য বিভাগের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান এবং পুলিশের ১০৭ থানা নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ভাষানটেক থানার ভবনের কাজ পছন্দের ঠিকাদারকে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বদরুল এর আকর্ষণীয় রোমাঞ্চকর মুহূর্ত

সম্পদের উৎস নিয়ে দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন : দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে বদরুল আলম খান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা বিপুল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামারবাড়ি, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

এছাড়া ভাই-বোনদের নামে সম্পদ ও ব্যবসা পরিচালনা, ডেভেলপার ব্যবসায় সম্পৃক্ততা এবং আয়কর নথিতে প্রকৃত সম্পদ গোপনের অভিযোগও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বদলি নিয়েও প্রশ্ন : অভিযোগ রয়েছে, গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাকে সাভার সার্কেল থেকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে বদলি করা হলেও ওই পদে অন্য কর্মকর্তার নাম সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও তদবিরের মাধ্যমে নিজের পছন্দের পদায়ন নিশ্চিত করেন। বদলির পরও তিনি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও দরপত্রে এখনও একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়। একজন নির্বাহী প্রকৌশলী দাবি করেন, সাম্প্রতিক কিছু নিয়োগে চাকরির আশ্বাস দিয়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিতর্ক : বদরুল আলম খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

তার প্রথম স্ত্রী মিসেস জেসমিন দাবি করেন, ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তিনি অবহেলা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাদের তিন কন্যাসন্তান রয়েছে এবং ছোট মেয়েটি বাবার আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও দাবি করেন, নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ নতুন নয় এবং সম্প্রতি এটিএন বাংলার সংবাদ পাঠিকা রোখসানা আক্তার মিমকে বিয়ে করেছেন বদরুল আলম খান। তার ভাষ্য, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাকে তালাকের নোটিশও পাঠানো হয়েছে। এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বদরুল আলম খানের অধিকাংশ সম্পদ ভাই-বোনদের নামে রয়েছে এবং তিনি নিজে ও তার সন্তানরা এসব সম্পদের কোনো অংশীদার নন।

এ বিষয়ে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

দ্বিতীয় স্ত্রীর দাবি : অন্যদিকে, এটিএন বাংলার সংবাদ পাঠিকা রোখসানা আক্তার মিম বলেন, তিনি ও বদরুল আলম খান প্রায় সাত মাস ধরে বৈধভাবে বিবাহিত এবং দুই পরিবারের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে তিনি একসঙ্গে বসবাস (লিভ-টুগেদার) সংক্রান্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এটিএন বাংলার বক্তব্য৷ : এ বিষয়ে এটিএন বাংলার ভাইস প্রেসিডেন্ট রাসেল মাহমুদ বলেন, রোখসানা আক্তার মিম নামে কোনো সংবাদ পাঠিকাকে ব্যক্তিগতভাবে তিনি চেনেন না। ডে ও নাইট শিফটে অনেক সংবাদ পাঠিকা কাজ করেন, তাই সবাইকে ব্যক্তিগতভাবে চেনা সম্ভব হয় না।

বদরুল আলম খানের বক্তব্য মেলেনি : অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তদন্তের দাবি৷ : অভিযোগকারীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হলে সরকারি প্রকল্প, দরপত্র প্রক্রিয়া, সম্পদ অর্জন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, উল্লিখিত সব অভিযোগ অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য ও দাখিল করা অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ