ছবির ক্যাপশন : মারধরের অভিযোগে আহত শামীম, অপর ছবিতে তার দাবি অনুযায়ী হামলার সময় টেনে ছিঁড়ে ফেলা দাড়ির অংশ। ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার শেহালা গ্রামের পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাবা ও ছেলেকে পথরোধ করে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ জুন ২০২৬, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাকিল ও তার বাবা শামীম বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের পথরোধ করে হামলা চালানো হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, খবির (পিতা: তাজু শেখ), শিপন (পিতা: খবির উদ্দিন), রোকেয়া (স্বামী: খবির), খাদিজা (স্বামী: শিপন), মহসিন, আলী, লিখন, বজলুর, দুলালসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজন হামলায় অংশ নেন।
পরিবারের অভিযোগ, হামলাকারীরা বাবা-ছেলেকে বেধড়ক মারধর করেন। একপর্যায়ে শাকিলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করা হয় এবং তার বাম পায়ের প্রধান লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়। একই সঙ্গে শাকিলের বাবা শামীমের দীর্ঘদিনের লালিত দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগও উঠেছে।
এই অভিযোগ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অনেকের ভাষ্য, একজন মুসল্লির দাড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের শামিল। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আহত শাকিল ও তার বাবাকে দৌলতপুর উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শাকিলকে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানো হয়।
আবার চিকিৎসকের পরামর্শে এমআরআই করানোর পর জানা যায়, তার বাম পায়ের প্রধান লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসক দ্রুত অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এ ধরনের অপারেশন কুষ্টিয়ায় সম্ভব নয় বলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তার পুরো পা ব্যান্ডেজ করা অবস্থায় রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থায় রয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের আরও অভিযোগ, ঘটনার পর থেকেও অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন। এতে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রতন জানান, তিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শাকিল ও তার বাবাকে পথরোধ করে মারধর করা হয় এবং পরে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
রতন আরও অভিযোগ করেন, খবির অতীতেও বিভিন্ন সময় এলাকাবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। তার দাবি, কিছুদিন আগে শামীম (পিতা: ফকির মণ্ডল)-এর বিরুদ্ধেও একটি মামলা করা হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে খবির প্রভাব খাটিয়ে মামলা, ভয়ভীতি ও বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে হয়রানি করতেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
