সোমবার, ২৪শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার কবিরকে ঘিরে টেন্ডার, পোস্টিং ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে দুদকে আবেদনের প্রস্তুতি 

নিজস্ব প্রতিবেদক
আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১:২১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনিক সংস্কার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি—এমন অভিযোগের মধ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগকে ঘিরে সামনে এসেছে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির।

তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে টেন্ডার পদ্ধতি পরিবর্তন, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার ও পোস্টিং সিন্ডিকেট পরিচালনা, রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন নিশ্চিত করতে অর্থ লেনদেনের মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র তদন্ত ও প্রমাণিত সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি।

অনুসন্ধানে পাওয়া অভিযোগ অনুযায়ী, কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে। অভিযোগকারীদের দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু কাজে লিমিটেড টেন্ডার মেথড বা এলটিএম অনুসরণের কথা থাকলেও ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে তিনি ওপেন টেন্ডার মেথড বা ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ওটিএম পদ্ধতি উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক হলেও সংশ্লিষ্ট দরপত্রগুলো এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট কিছু পছন্দের ঠিকাদার সুবিধা পান এবং অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ে। এ নিয়ে ৬০টির বেশি দরপত্রের প্রক্রিয়া প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রশ্নবিদ্ধ দরপত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—১০৬০৬৮৯, ১০৭০৫৪৬, ১০৬৬৫৯৪, ১০৬৭৭২৪, ১০৬৬৬০২, ১০৬৭৭২১, ১০৭০৫৪৩, ১০৭০৫৪৫, ১০৬৭৭২৭, ১০৬৭৭২৬, ১০৬৭৭২৫, ১০৬৭৭২৩, ১০৭০৫৪০, ১০৭০৫৪৮, ১০৬৬৫৮৯, ১০৫৮০৭৮, ১০৪৫৫৪৩, ১০৪৫৫৫০, ১০৫৮৪৯৯, ১০৫৮৫০০, ১০৫৮০৮১, ১০৫৮০৮৪, ১০৬০০৮৪, ১০৪৫৫১৫, ১০৪৫৫১৮, ১০৪৫৫২১, ১০৪৫৫২২, ১০৪৫৫২৩, ১০৪৫৫২৫, ১০৪৫৫২৬, ১০৪৫৫২৭, ১০৪৫৫৩১, ১০৪৫৫৪১, ১০৪৫৫৪৬, ১০৬০০৭৭, ১০৫৮১২৪, ১০৪৩৩৫২, ১০৪৩৩৬১, ১০৪৩৩৬৭, ১০৪৩৩৭৩, ১০৪৩৪১০, ১০৪৩৪১৪, ১০৪৩৫১৫, ১০৪৩৪১৭, ১০৪৩৪১৮, ১০৪৩৪১৯, ১০৪৩৪২০, ১০৪৩৪২১, ১০৪৩৪২২, ১০৪৩৪২৪, ১০৪৩৪২৬, ১০৪৩৪২৭, ১০৪৩৪২৯, ১০৪৩৪৩০, ১০৪৩৫৩১, ১০৪৩৪৩২, ১০৪৩৪৩৩, ১০৪৩৪৩৪, ১০৪৩৪৩৫, ১০৪৩৪৩৮, ১০৪৩৪৪০, ১০৪৩৪৪১ ও ১০৪৩৪৪৩।

টেন্ডারের আড়ালে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

অভিযোগের পরিধি শুধু টেন্ডার পদ্ধতি পরিবর্তনেই সীমাবদ্ধ নয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের একটি ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল। কাজের ধরন ও প্রকল্পের আর্থিক মূল্য অনুযায়ী কমিশনের অঙ্ক কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।

এমনকি এসব টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারি অর্থের বড় ধরনের অপচয় বা আত্মসাতের অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এসব আর্থিক অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি, বিল-ভাউচার, কার্যাদেশ এবং ই-জিপি তথ্যের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ, বড় অঙ্কের সরকারি অর্থ

ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট। রাজধানীর সরকারি ভবন, সরকারি বাসভবন, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিভিন্ন অবকাঠামোগত কাজ এই বিভাগের আওতাধীন। প্রতিবছর এ বিভাগে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের কাজ বরাদ্দ হয়।

ফলে বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর হাতে টেন্ডার, কাজের অনুমোদন, ঠিকাদার নির্বাচন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা থাকে। অভিযোগ রয়েছে, এই ক্ষমতাকেই কাজে লাগিয়ে কায়সার কবির বিভাগের টেন্ডার কার্যক্রমে নিজের প্রভাব বলয় তৈরি করেন।

কর্মকর্তা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, কায়সার কবির সরাসরি সব কার্যক্রম পরিচালনা না করে তাঁর আস্থাভাজন কিছু অধস্তন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মাধ্যমে বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করতেন।

বদলি, দায়িত্ব বণ্টন, কাজ অনুমোদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও তাঁর প্রভাব ছিল বলে কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা কিংবা তাঁর সঙ্গে মতবিরোধে জড়ানো কর্মকর্তাদের বদলি, প্রশাসনিক চাপ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকত।

পোস্টিং, বদলি ও বার্ষিক মূল্যায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর প্রভাব রয়েছে—এমন অভিযোগের কারণেই অনেক কর্মকর্তা প্রকাশ্যে কথা বলতে অনাগ্রহী বলেও দাবি সংশ্লিষ্টদের।

কর্মজীবনের পুরোনো অধ্যায় নিয়েও প্রশ্ন

কায়সার কবিরের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। সাভার সার্কেলে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল কাদের চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

আব্দুল কাদের চৌধুরী পরবর্তীতে জিকে শামীম-সংশ্লিষ্ট ক্যাসিনো ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগে আলোচিত হন এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগে পদাবনতির মুখে পড়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, সাভারে দায়িত্ব পালনকালের সময় থেকেই কায়সার কবির সরকারি টেন্ডার ব্যবস্থাপনায় প্রভাব বিস্তারের কৌশল রপ্ত করেন।

জামালপুরে e-GP নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

পরবর্তীতে জামালপুরে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মির্জা আজম এমপি ও তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগও ওঠে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর e-GP সিস্টেমের পাসওয়ার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হতো। অভিযোগটি সত্য হলে তা সরকারি ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা ও দরপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে। বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

গুরুত্বপূর্ণ পোস্টিং ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ঢাকায় ফিরে কায়সার কবির আজিমপুর, গুলশানসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাব-ডিভিশনে দায়িত্ব পালন করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর পোস্টিং নিয়েও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পাবনা জেলার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিকের মাধ্যমে অর্থ দিয়ে আজিমপুরে নিজের পছন্দের পোস্টিং নিশ্চিত করেন তিনি। একই প্রক্রিয়ায় তাঁর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইলিয়াস আহমেদ ও মাহাবুব নামের আরও দুই প্রকৌশলী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বহাল হন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে পোস্টিং নিয়েও প্রশ্ন

নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে চলতি দায়িত্ব পাওয়ার পর ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে তাঁর পদায়ন নিয়েও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সামনে এসেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, সাজিন কন্সট্রাকশন লিমিটেডের কর্ণধারের মাধ্যমে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতারকে বড় অঙ্কের অর্থ দিয়ে কায়সার কবির ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে পোস্টিং নেন। এরপরই বিভাগটিতে ব্যাপক টেন্ডার বাণিজ্য শুরু হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।

রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ

কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে বদলি ও পদায়ন বাণিজ্যে যুক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে। সাবেক মন্ত্রী র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মুসার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের কথা অভিযোগে বলা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, মুসার মাধ্যমে আন্তঃজেলা ভ্রমণ, নগদ অর্থ লেনদেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অর্থায়নের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি, এমনকি শেখ কামালের জন্মদিনের অনুষ্ঠানেও অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।

সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন

কায়সার কবিরের ব্যক্তিগত সম্পদ ও জীবনযাপন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রাজধানীতে তাঁর বসবাস, গাড়ি ব্যবহার এবং পারিবারিক ব্যয়ের ধরন তাঁর ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

বিভিন্ন সূত্র তাঁর সম্পদের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে তাঁর আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী, ব্যাংক হিসাব এবং বৈধ আয়ের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।

জুলাই আন্দোলন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ

কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থান ও ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, ওই সময়ে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন বা হত্যাকাণ্ডে তিনি প্রত্যক্ষভাবে অর্থায়ন করেছেন।

তবে এমন গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য ও তদন্তকারী সংস্থার যাচাই ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সমীচীন নয়।

ভয়ের পরিবেশের অভিযোগ

কায়সার কবিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রশাসনিক ভয়ের পরিবেশ। সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, পোস্টিং, বদলি, দায়িত্ব বণ্টন ও বার্ষিক মূল্যায়নে তাঁর প্রভাব থাকার কারণে কেউ প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না।

তাঁদের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বিরোধে গেলে প্রশাসনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অভিযোগ থাকলেও অনেক কর্মকর্তা নীরব থাকেন।

কায়সার কবিরের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির এসব অভিযোগকে, মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, টেন্ডারের আইডি যাচাই না করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

সামনে তিনটি বড় প্রশ্ন

কায়সার কবিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করলে মূলত তিনটি বিষয় সবচেয়ে বেশি সামনে আসে—টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক যোগাযোগ ব্যবহার করে পোস্টিং-বদলি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ এবং এসব প্রভাবের মাধ্যমে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে e-GP নিয়ন্ত্রণ, পছন্দের ঠিকাদারদের সুবিধা দেওয়া, কমিশন বাণিজ্য, প্রশাসনিক চাপ, সম্পদ বৃদ্ধির প্রশ্ন এবং জুলাই আন্দোলন ঘিরে গুরুতর অভিযোগ।

অভিযোগগুলো সত্য নাকি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত—তা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট দরপত্রের নথি, e-GP লগ, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পোস্টিং-বদলির নথি, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক লেনদেন স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠতে পারে; আর অভিযোগ অসত্য হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের দায়ও নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সুতরাং প্রশ্ন এখন একটাই—ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের টেন্ডার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কি সত্যিই নিয়মের মধ্যে পরিচালিত হয়েছে, নাকি প্রভাব ও স্বার্থের অদৃশ্য বলয়ে সরকারি অর্থের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে?

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ