মাত্র ১০ হাজার টাকায় তিন দিনের জন্য এজেন্ট সিম ভাড়া। সিআইডির অভিযানে গ্রেপ্তার দোকানি লিটন। ছবি সংগৃহীত
অনলাইন জুয়ার ভয়াবহ আর্থিক লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সিম তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন খুলনার এক চা দোকানি। আর সেই সিমের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে মাত্র তিন দিনেই অনলাইন জুয়ার সাইটে লেনদেন হয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা। এ ঘটনায় লিটন হাওলাদার নামে ওই চা দোকানিকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার লিটন হাওলাদারের বাড়ি খুলনার খালিশপুরের বড় বয়রা পালপাড়া এলাকায়। তিনি খুলনার বৈকালী এলাকায় ‘লিটন টি স্টল’ নামে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন।
সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে গত ৩১ আগস্ট পল্টন থানায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্তে এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া শেখ সাখির আহম্মেদ অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১৪ জন দোকানদারের নাম প্রকাশ করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই লিটন হাওলাদারকে শনাক্ত করা হয়।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বুধবার লিটনকে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে তলব করা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, নিজের নামে নিবন্ধিত বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সিম খুলনার বয়রা এলাকার এক অটোচালকের কাছে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে তিন দিনের জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন।
তবে ওই সিমের আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ খতিয়ে দেখতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পায় তদন্তকারী সংস্থা। সিআইডি সিমটির বিকাশ অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যালোচনা করে দেখতে পায়, গত ৭ থেকে ৯ আগস্ট—মাত্র তিন দিনে ওই অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার ৮০১ টাকা লেনদেন হয়েছে। তদন্তে এসব অর্থ অনলাইন জুয়ার সাইটে ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে।
পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে টাকার বিনিময়ে নিজের এজেন্ট সিম অনলাইন জুয়ার কাজে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন লিটন। মামলার ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অভিযানকালে তাঁর কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং একটি বিকাশ ও নগদ এজেন্ট সিম জব্দ করা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, অনলাইন জুয়ার এই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে একটি এজেন্ট সিম ভাড়া দেওয়ার আড়ালে তিন দিনে সোয়া দুই কোটি টাকার বেশি লেনদেনের ঘটনায় চক্রটির বিস্তৃতি ও অর্থের প্রকৃত গন্তব্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
