দেশজুড়ে ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিলেও থামছে না নারীর প্রতি সহিংসতা। একের পর এক অভিযোগ উঠছে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। আর সেই ক্ষমতার দাপটেই ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও বাড়ছে উদ্বেগজনকভাবে।
এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের কিং ছুপুয়া গ্রামে। সেখানে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মামলা দায়েরের পরও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অভিযুক্ত এই নেতা এবং বিভিন্নভাবে বাদীপক্ষকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকায় আরিফুর রহমানের পরিচালিত দুটি “জোনাকি হোটেল” রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি কালিকাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদকসহ নানা অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একাধিকবার প্রশাসন ওই হোটেলগুলোতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে। এক অভিযানে হোটেল মালিক আরিফুর রহমান পালিয়ে গেলেও হোটেল ম্যানেজার লিমা আক্তারের স্বামী রাজু আহমেদকে মাদকসহ আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, রাজু আহমেদকে জামিনে মুক্ত করে আনার আশ্বাস দিয়ে পরে লিমা আক্তারের বাসায় যান আরিফুর রহমান। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় গৃহবধূকে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী লিমা খাতুনের স্বামী সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি আরিফুর রহমান পরিচালিত চুপুয়া লালারপুল সংলগ্ন জোনাকি হোটেলের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত আরিফুর রহমান ভুক্তভোগীর ভাড়া বাসায় প্রবেশ করেন। তিনি প্রথমে স্বামীকে জেল থেকে বের করে আনার আশ্বাস দেন, পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে গৃহবধূকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিমা বেগম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ও ৩০ ধারায় আদালতে মামলা দায়ের করে বিচার প্রার্থনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আরিফুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,
“ভাই, এই বিষয় নিয়ে অনেক নিউজ হয়েছে, মীমাংসাও হয়েছে। এখন আবার কী সমস্যা?”
—এ কথা বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।
স্থানীয় গ্রামবাসীর দাবি, আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক অভিযোগ ও মামলা রয়েছে। তবে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
