বৃহস্পতিবার, ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় দুর্বার অগ্রযাত্রা: পটুয়াখালীতে ৪৪১ নবীন নাবিকের বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজে নৌবাহিনীর শক্তির প্রদর্শন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
মে ২১, ২০২৬ ৩:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে আধুনিক, স্মার্ট ও ত্রিমাত্রিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপান্তরের অগ্রযাত্রার মধ্যেই পটুয়াখালীর বানৌজা শের-ই-বাংলা প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হলো ৪৪১ নবীন নাবিকের জাঁকজমকপূর্ণ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ। শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও দেশপ্রেমের অনন্য প্রদর্শনীতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে আয়োজিত এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। তিনি প্যারেড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন এবং পরে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী নবীন নাবিকদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সুনীল অর্থনীতির বিকাশে প্রশিক্ষিত ও দক্ষ নাবিকরাই ভবিষ্যতের মূল শক্তি। তিনি জানান, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

তিনি আরও বলেন, একবিংশ শতাব্দীর বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও স্মার্ট নৌবাহিনী গড়ে তুলতে দক্ষ, চৌকশ ও সুশিক্ষিত নাবিকের কোনো বিকল্প নেই। নবীনদের সততা, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও মূল্যবোধ ধারণ করে দেশসেবায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সেনা ও বিমান বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন।

এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, নবীন নাবিক প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যোগ্য নাবিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আজকের এই নবীন নাবিকরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সুবিশাল সমুদ্রসীমা রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন।

প্রশিক্ষণে পেশাগত ও সার্বিক বিষয়ে সর্বোচ্চ উৎকর্ষ অর্জন করায় মোঃ শাহরিয়ার টুটুল লাভ করেন ‘নৌপ্রধান পদক’। দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারী মোঃ সামিউল ইসলাম শাকিল পান ‘কমখুল পদক’ এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মোঃ কাদের মিয়া অর্জন করেন ‘শের-ই-বাংলা পদক’। এছাড়া সেরা চৌকশ মহিলা নাবিক হিসেবে মোছাঃ মারিয়া আক্তার অর্জন করেন ‘প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার পদক’।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নৌবাহিনী প্রধান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নৌ কমান্ডোদের গৌরবোজ্জ্বল অবদানের কথাও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অপারেশন জ্যাকপটসহ বিভিন্ন দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে নৌবাহিনীর সদস্যরা দেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি আরও জানান, স্বাধীনতার পর সীমিত সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনী আধুনিক যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন, নেভাল এভিয়েশন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে শক্তিশালী ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নৌবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমুদ্রসম্পদ সংরক্ষণ, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং বহিঃশত্রুর যেকোনো হুমকি মোকাবেলায় নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

অনুষ্ঠানে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সামরিক ও অসামরিক ব্যক্তিবর্গ, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং নবীন নাবিকদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।