বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বদলিতে কোটি টাকার লেনদেন, টেন্ডারে কমিশন, গণপূর্তে বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে

আবদুর রহমান
জুলাই ১৬, ২০২৬ ৬:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে । অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যায়ের ৬৫ কর্মকর্তাকে পছন্দের কর্মস্থলে পদায়নের নামে ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগগুলো সামনে আসার পর প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে অভিযোগের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে তিনি সাংবাদিকের সঙ্গে উত্তেজিত আচরণ করেন।

প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বদলি হওয়া ৬৫ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর নামে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। পদভেদে ১০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরেই বদলি ও টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতারকে সরিয়ে খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। নেতৃত্ব পরিবর্তন হলেও অনিয়মের ধরন বদলায়নি; বরং আগের সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন একটি প্রভাববলয় গড়ে উঠেছে।

গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিজেদের অনুগত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আর্থিক লেনদেনের ভিত্তিতে বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

বরখাস্ত প্রকৌশলীকে ব্যাকডেটে বদলির অভিযোগ : দুর্নীতির দায়ে বরখাস্ত হওয়া প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে পুনর্বহালের পথ সুগম করতে ব্যাকডেটে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে সাইফুজ্জামানকে বরখাস্ত করে। ওই আদেশে তাঁকে লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্বে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ১৫ ফেব্রুয়ারির এক আদেশে দেখা যায়, তাঁকে ২ ফেব্রুয়ারি—অর্থাৎ বরখাস্তের একদিন আগে—ঢাকায় রিজার্ভে বদলি করা হয়েছে।

যদি ২ ফেব্রুয়ারিই বদলি কার্যকর হয়ে থাকে, তাহলে ৩ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রণালয়ের বরখাস্তের আদেশে তাঁকে লালমনিরহাটের কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হলো কেন? আবার ২ ফেব্রুয়ারির আদেশ ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ হওয়ার কারণও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এই অসামঞ্জস্য ইঙ্গিত দেয় যে পরবর্তীতে তারিখ পরিবর্তন করে আদেশ জারি করা হয়েছে।

টেন্ডার পুনর্মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন : প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, বড় অঙ্কের পাঁচটি দরপত্র কমিশনসংক্রান্ত অসন্তোষের কারণে পুনর্মূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১, বিভাগ-৩ এবং শেরেবাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-২-এর আওতাধীন পাঁচটি দরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। কারণ হিসেবে পিপিআর ২০২৫ অনুযায়ী নথিপত্রে ত্রুটির কথা বলা হয়।

তবে গণপূর্তের একাধিক কর্মকর্তা প্রশ্ন তুলেছেন, পিপিআর ২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ব্যাপক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রশিক্ষণের পরও যদি মৌলিক ভুল থেকে থাকে, তবে তা দক্ষতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে যদি প্রকৃতপক্ষে কোনো ত্রুটি না থাকে, তাহলে পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।

প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর থেকেই বিতর্ক : গণপূর্ত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পাওয়ার আগে থেকেই খালেকুজ্জামানকে ঘিরে নানা আলোচনা ছিল। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে প্রধান প্রকৌশলীর রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে চলতি দায়িত্বও দেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি ব্যাপক বদলি কার্যক্রম শুরু করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের বসানোর উদ্যোগ নেন। সমালোচকদের অভিযোগ, এসব বদলির পেছনে আর্থিক লেনদেন ছিল। যদিও এ অভিযোগের কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।

একদিনে অর্ধশতাধিক বদলি, পরে বাতিল : গত ৩ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে একদিনে অর্ধশতাধিক নির্বাহী প্রকৌশলী, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এত বড় আকারের বদলির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের সবাই অবগত ছিলেন না। পরে বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে এলে প্রধান প্রকৌশলীকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারায় ৫ মার্চ ও ৮ মার্চ পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে অধিকাংশ বদলির আদেশ বাতিল করা হয়।

তবে এরপরও ছোট পরিসরে বদলি কার্যক্রম চলতে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

‘সিন্ডিকেট বদলেছে, পদ্ধতি বদলায়নি’ : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণপূর্তের এক কর্মকর্তা বলেন, সমস্যা শুধু আগের সিন্ডিকেট ভাঙা নয়; বরং নতুন একটি প্রভাববলয় গড়ে তোলা হয়েছে। তাঁর দাবি, যাঁরা নতুন নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন এবং যাঁরা আর্থিকভাবে সন্তুষ্ট করতে পারছেন, তাঁরাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে আলোচিত কিছু কর্মকর্তাও এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন, যা নিয়ে অধিদপ্তরের ভেতরে প্রশ্ন রয়েছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদনের সময় পর্যন্ত তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তাঁর লিখিত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ