নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অনিয়ম ঠেকাতে ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে একযোগে বাজার তদারকি অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মূল্যতালিকা, ওজন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও নকল-ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে নজরদারি চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে অধিদপ্তরের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
অভিযানকালে নিত্যপণ্যের মূল্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঝুলানো মূল্যতালিকা যাচাই করেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে মাপে কারচুপি প্রতিরোধ, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য ও ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং নকল ও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন-বিক্রি রোধে বিভিন্ন বাজার ও প্রতিষ্ঠানে তদারকি করা হয়।
ঢাকা মহানগরসহ দেশের চারটি জেলায় অধিদপ্তরের মোট ছয়টি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম শনাক্ত হলে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ঘটনাস্থলেই তা আদায় করা হয়।
শুধু জরিমানা নয়, সচেতনতায়ও জোর
বাজার তদারকির পাশাপাশি ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করতে লিফলেট ও প্যাম্ফলেট বিতরণ করা হয়। ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা এবং ভোক্তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
অধিদপ্তরের এ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং স্থানীয় শিল্প-বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
জনস্বার্থে বাজারে অনিয়ম, অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
কেনাকাটায় ভোক্তাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ
এদিকে পণ্য কেনার সময় সাধারণ ভোক্তাদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে অধিদপ্তর। বিশেষ করে—
দোকানে প্রদর্শিত মূল্যতালিকা যাচাই করে পণ্য কেনা;
. সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া।
. প্যাকেটের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য (এমআরপি) যাচাই করা।
. পণ্যের মেয়াদের তারিখ দেখে কেনাকাটা করা।
. নকল, ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য থেকে দূরে থাকা।
. প্রতারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত না হওয়া।
ভোক্তা অধিদপ্তরের এই ধারাবাহিক অভিযান বাজারে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের আইন মেনে চলতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতনভাবে কেনাকাটা করতে আরও উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
