রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে বঙ্গভবনের দরবার হলে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকা হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্য, বিদেশি কূটনীতিক, সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠান শুরুর আগে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি প্রবেশের সময় উচ্চস্বরে আগমন বার্তা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বেজে ওঠে জাতীয় সংগীত। প্রধানমন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা জাতীয় সংগীত শেষ হওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে সম্মান জানান।
এরপর অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি রাষ্ট্রপতির অনুমতি চান। অনুমতি পাওয়ার পর পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয়। পরে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথবাক্য পাঠ করান।
শপথ গ্রহণ শেষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর হাতে থাকা ফোল্ডারে রাখা দুটি কাগজে স্বাক্ষর করেন। এর একটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংরক্ষণ করবে এবং অন্যটি রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখা হবে।
এর মধ্য দিয়ে শেষ হয় দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। পরে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
বঙ্গভবনে প্রবেশের আগেই জোরদার নিরাপত্তা
শপথ অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা আগে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর গাড়িবহর শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে প্রবেশ করে।

রাষ্ট্রপতির শপথকে কেন্দ্র করে বঙ্গভবন ও আশপাশের এলাকায় জোরদার করা হয় নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে আমন্ত্রণপত্র ও পরিচয় যাচাই করে অতিথিদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।
যেভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পথ তৈরি হয়
গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন তৎকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর স্পিকারের দায়িত্ব নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
এরপর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংসদ ভবনের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।
নির্বাচনের পর শুক্রবার শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
