শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দৌলতপুরে দুই মাসে অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত ৫৪, ছড়িয়ে পড়ছে তড়কা, চিকিৎসাধীন ২৪; গুরুতর ৫ রোগীও সুস্থ

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ ২:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগ। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ রোগের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে অ্যানথ্রাক্সের উপসর্গ নিয়ে রোগীরা চিকিৎসার জন্য আসছেন দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের আগস্ট মাস থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দৌলতপুরে মোট ৫৪ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে এর মধ্যে ২৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে ৩০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৫ জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তারাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার তারাগুনিয়া এলাকার সাধন, ফিলিপনগর এলাকার রোহান, হোসেনাবাদ এলাকার আফরিন, সাদিপুর এলাকার মিনহাজ, আমদহ এলাকার সুমন, গোয়ালগ্রাম এলাকার রবিউল, রিফায়েতপুর এলাকার আসমান ও ইব্রাহিম এবং পচামাদিয়া এলাকার সোহেল রানাসহ বিভিন্ন এলাকার রোগী রয়েছেন।

উপজেলার মথুরাপুর এলাকার তাসেন আলী (৪০) চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন। তিনি জানান, হঠাৎ তার হাতে একটি ঘা তৈরি হয়। প্রাথমিকভাবে চিকিৎসা নিলেও ঘা ভালো হচ্ছিল না। পরে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। এরপর এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।

অন্যদিকে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজত এলাকার সেলিম হোসেন (৩৩) জানান, গরুর মাংস কাটার সময় তার হাতে কেটে যায়। পরে সেখানে ঘা সৃষ্টি হয়। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যানথ্রাক্স শনাক্ত হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবনের পর বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থবোধ করছেন।

চিকিৎসকরা জানান, অ্যানথ্রাক্স একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। সাধারণত আক্রান্ত গবাদিপশুর মাধ্যমে মানুষের শরীরে এ রোগ ছড়ায়। আক্রান্ত গরু, ছাগল, মহিষ বা ভেড়ার মাংস কাটা, চামড়া বা দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার সময় জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে হাতে বা শরীরে কাটা কিংবা ক্ষত থাকলে সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে অসুস্থ বা হঠাৎ মারা যাওয়া গবাদিপশু জবাই না করা, এসব পশুর মাংস কেনাবেচা ও খাওয়া থেকে বিরত থাকা এবং আক্রান্ত পশুর দেহাবশেষ খালি হাতে নাড়াচাড়া না করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পশু অসুস্থ হলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের জানানো এবং শরীরে সন্দেহজনক ক্ষত দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, অ্যানথ্রাক্স গবাদিপশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। আক্রান্ত গরু-ছাগল জবাই করা কিংবা এসব পশুর মাংস ও দেহাবশেষ নাড়াচাড়া করার মাধ্যমে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। তাই জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং অসুস্থ বা অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গবাদিপশু জবাই ও কেনাবেচা থেকে বিরত থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, গত আগস্ট মাস থেকে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত দৌলতপুরে মোট ৫৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর ৫ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর তারাও সুস্থ হয়েছেন।

তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এ কর্মকর্তা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।