কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৯ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বিভিন্ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। তবে অভিযানে উদ্ধার হওয়া সব মালামালই মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া যায়।
বিজিবি সূত্র জানায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কাথুলী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাঠালতলা মাঠে চৌকস একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ২ বোতল মদ ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ১০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, একই দিন ঠোটারপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার পাকুরিয়া মাঠে বিজিবির একটি টহল দল অভিযান চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ৫৫০ পিস সাইপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট, ৪ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও ১ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এসব মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা।
এরপর কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর নওপাড়া সুইচ গেট এলাকায় পৃথক অভিযান চালানো হয়। সেখানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৪০০ বোতল ফেয়ারডিল সিরাপ ও ৭ হাজার ৬০০ পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করে বিজিবি। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের আনুমানিক সিজার মূল্য ২৩ লাখ ১৪ হাজার ৪০০ টাকা।
এদিকে, প্রাগপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গুরের পাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার ৭১০ প্যাকেট পাতার বিড়ি উদ্ধার করে বিজিবির একটি টহল দল। উদ্ধারকৃত চোরাচালানি মালামালের আনুমানিক সিজার মূল্য ৯৪ হাজার ৫০ টাকা।
বিজিবি জানায়, সীমান্তের পৃথক চারটি অভিযানে সর্বমোট ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানি মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) নিয়মিত অভিযান ও টহল পরিচালনা করছে। সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ও তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
