ফাইল ছবি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে টানা ৮০ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখার একটি পাটখেতে আটকে থাকার পর অবশেষে চার শিশু ও চার নারীসহ মোট ১২ জনকে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। দীর্ঘ চার দিনের অনিশ্চয়তা, রোদ-বৃষ্টি, খাদ্য ও পানির সংকট এবং মানবিক দুর্ভোগের অবসানে সীমান্ত এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।
জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোরে প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। তবে সীমান্তে দায়িত্বরত বিজিবি সদস্য ও স্থানীয়দের সতর্ক অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে তারা সীমান্তের শূন্যরেখার ভারতীয় অংশের একটি পাটখেতে আটকা পড়ে।
দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে গিয়ে শিশু ও নারীদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং আশ্রয়ের অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই মানবিক সংকটে রূপ নেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, চার দিন ধরে সীমান্তের ওই অংশে আটকে থাকা মানুষগুলোর দুর্ভোগ ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও বিজিবি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনায় নজরদারি ও সহযোগিতায় যুক্ত ছিলেন।
অবশেষে সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে জরুরি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ১২ জনকে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৮০ ঘণ্টার অচলাবস্থা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে মানবিক সংকট এড়াতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সমন্বয় ও আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা হয়েছে।
বড় প্রশ্ন রয়ে গেল
এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে সীমান্তে পুশইন ইস্যু এবং শূন্যরেখায় আটকে পড়া অসহায় নারী-শিশুদের মানবিক নিরাপত্তার প্রশ্ন। চার দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে ১২ জন মানুষের এমন অনিশ্চিত অবস্থান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
