নরসিংদীতে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ব্যবসায়ী অপহরণ : ৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা। ফাইল ছবি
নরসিংদী আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জিম্মি রেখে নির্যাতন এবং পরিবারের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালত এলাকা থেকেই তাকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী লিখন তালুকদার নরসিংদী মডেল থানায় মাসুদ রানা বাবুল ওরফে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বাবুলকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরও প্রধান অভিযুক্তকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগী লিখন তালুকদার ফরিদপুর জেলার নগরকান্দা উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ঢাকাভিত্তিক একটি কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে একটি চেক সংক্রান্ত মামলায় হাজিরা দিতে লিখন তালুকদার ও তাঁর বন্ধু শাকিল খান নরসিংদী আদালতে যান। হাজিরা শেষে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হওয়ার সময় মাসুদ রানা বাবুলের নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, সেখানে তাঁকে নির্মমভাবে মারধর করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী সায়মা শাহীন রিয়াকে কল করে নির্যাতনের শব্দ শোনানো হয় এবং টাকা না দিলে তাঁকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, স্বামীকে বাঁচাতে বাধ্য হয়ে তাঁর স্ত্রী অভিযুক্তদের দেওয়া ছয়টি বিকাশ নম্বরে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ ১৮ হাজার টাকা পাঠান। টাকা পাওয়ার পর লিখন তালুকদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে বিষয়টি পুলিশকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মুক্তি পাওয়ার পর তিনি নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং পরে অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— মাসুদ রানা বাবুল, কামাল সরকার, কামাল ভূঁইয়া, আবু হানিফ সজিব, ইনসান, শরীফ এবং মোশারফ হোসেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত মাসুদ রানা বাবুল দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পেজ পরিচালনা করে বিভিন্ন ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, আইনজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছেন। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ, ব্ল্যাকমেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি নিজেকে একটি কথিত ‘মাদকবিরোধী আন্দোলন’ সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। একই সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র পরিচালনার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং আদালতে অভিযোগগুলোর বিচারাধীন অবস্থাও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
অভিযুক্ত মাসুদ রানা বাবুলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে নরসিংদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, “লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদিকে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল ফারুক বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
