জাপানের নাগোয়ায় বৃহস্পতিবার টয়োটার মোতোমাচি কারখানা পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্পয়লারে রেড সিগন্যাল, দুই ঘণ্টার বেশি উড়োজাহাজে অপেক্ষা করে নামলেন তারেক রহমানসহ যাত্রীরা; আগের তদন্তে উঠে এসেছিল রক্ষণাবেক্ষণে গুরুতর অনিয়ম, এবারও প্রকৌশলীদের জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন।উপস্থিত ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান -পিআইডি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী উড়োজাহাজে আবারও যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। জাপান সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বৃহস্পতিবার টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পুশব্যাকের পর ট্যাক্সি করার সময় উড়োজাহাজটির স্পয়লারে রেড সিগন্যাল দেখা যায়। এতে নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়ন স্থগিত করেন পাইলট। উড়োজাহাজের ভেতরে দুই ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রীসহ সফরসঙ্গীদের নামিয়ে আনা হয়। পরে অন্য যাত্রীদেরও বিমানবন্দরের লাউঞ্জে অপেক্ষা করতে হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে বারবার এমন যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা, উড্ডয়নের আগে কারিগরি পরীক্ষা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীদের জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিকে বহনকারী ফ্লাইটে একের পর এক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
গত বছর লন্ডন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার ফ্লাইটের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম ও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়েছিল তদন্ত কমিটি। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জাপান সফর শেষে ফেরার পথে নতুন করে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিল প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটে। এতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে নড়েচড়ে বসেছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটির বিষয়ে বিমানের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার কাছে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কয়েকটি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে—উড়োজাহাজে কী ধরনের কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল, উড্ডয়নের আগে নির্ধারিত প্রি-ফ্লাইট চেকলিস্ট অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও ত্রুটি কেন শনাক্ত হয়নি এবং এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভিভিআইপি ব্যক্তির নিরাপত্তায় এমন শৈথিল্য স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এ ধরনের ঘটনা কেবল যান্ত্রিক ত্রুটির বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উড্ডয়নের আগে কারিগরি পরীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছিল কি না, আগের ত্রুটি থেকে শিক্ষা নেওয়া হয়েছিল কি না এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছিল কি না—সবকিছুই খতিয়ে দেখা জরুরি।
বিমানের পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ধরনের ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে সেটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে না দেখে পুরো রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, উড্ডয়নের আগে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। এই ফ্লাইটের প্রকৌশলী কে ছিলেন, তিনি কেন কারিগরি ত্রুটি জেনেও ছাড়পত্র দিলেন—সেটিও অনুসন্ধান করা দরকার। একই সঙ্গে আগের তদন্তে উঠে আসা অনিয়মের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
রানওয়ের পথে স্পয়লারে রেড সিগন্যাল
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে নারিতা থেকে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটটির উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে উড়োজাহাজটিকে টার্মিনাল থেকে পুশব্যাক করা হয়। পরে রানওয়ের দিকে ট্যাক্সি করার সময় ককপিটে স্পয়লার-সংক্রান্ত ত্রুটির সংকেত—রেড সিগন্যাল—দেখা যায়।
নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়নের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন পাইলট ক্যাপ্টেন ইমামুল। নির্ধারিত সময়ের প্রায় ৪০ মিনিট পর ককপিট থেকে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হওয়ার কথা জানান পাইলট। এ জন্য যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে উড়োজাহাজটিকে টারমাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ত্রুটি মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উড়োজাহাজ থেকে নেমে যান। অন্য যাত্রীদেরও অপেক্ষার জন্য বিমানবন্দরের লাউঞ্জে নেওয়া হয়।
সূত্রমতে, ফ্লাইটটির কারিগরি পরীক্ষা করে উড্ডয়ন উপযোগী হওয়ার ছাড়পত্র দিয়েছিলেন বিমানের প্রকৌশলী মো. সাদেকুল ইসলাম ভূঁইয়া। যদিও প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের ভিভিআইপি ফ্লাইটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাদেকুলকে নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল।
বিমানের অভ্যন্তরীণ দায়িত্বপত্র অনুযায়ী, বিজি-৩৭৬ ও বিজি-৩৭৭ ফ্লাইটের জন্য মনোনীত প্রকৌশলীদের তালিকায় ছিলেন সাদেকুল। তিনি ২০১৪ সালে মিসরীয় উড়োজাহাজ সংস্থা ইজিপ্ট এয়ার থেকে দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়া-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলার আসামি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির ভিভিআইপি ফ্লাইটে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের যাচাই করা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে সাদেকুলের বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বিধিনিষেধ ছিল কি না এবং তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছিল, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের উড্ডয়ন উপযোগিতার ছাড়পত্র দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের ভূমিকা আড়ালেই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটের সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি জড়িত। এ ধরনের দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগ্যতা, অতীত কর্মকাণ্ড ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি ছিল।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমেদ ত্রুটির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বৃহস্পতিবার জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইটটির যাত্রা বিলম্বিত হয়।
৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট বিলম্বে ছাড়ল ফ্লাইট
উড়োজাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে উড্ডয়ন উপযোগী করতে ৪ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট লেগে যায় বলে জানা গেছে। পরে বিমানের নিজস্ব প্রকৌশল দল ও জাপানি প্রযুক্তিবিদদের যৌথ প্রচেষ্টায় ত্রুটি মেরামত করা হয়।
স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে উড়োজাহাজটি নারিতা বিমানবন্দর ছেড়ে আসে বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা যায়। রাত আনুমানিক ২টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির অবতরণের কথা ছিল।
তবে এ ধরনের ভিভিআইপি ফ্লাইটে উড্ডয়নের আগে কীভাবে কারিগরি ত্রুটি শনাক্ত করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ত্রুটি মেরামত করেই দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই; ত্রুটির উৎস, পূর্ববর্তী পরীক্ষার মান এবং ছাড়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়াও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।
আগের তদন্তে উঠে আসে গুরুতর অনিয়ম
গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজে। ওই উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম নিয়ে পরে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে একাধিক অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বেস মেইনটেন্যান্স) মো. মনসুরুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজটিতে ৯ ও ১৭ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে একাধিক অনিয়ম পাওয়া গেছে। ১০ ডিসেম্বরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ মাত্র দুই থেকে আড়াই ঘণ্টায় শেষ করা হয়েছিল, যা উড়োজাহাজটির জন্য অস্বাভাবিকভাবে কম সময় বলে উল্লেখ করে কমিটি।
প্রতিবেদনে ত্রুটি নির্ণয় ও কার্যকারিতা পরীক্ষার বিস্তারিত লগ এবং সংশ্লিষ্ট জনবলের রেকর্ড উপস্থাপন করতে না পারার বিষয়টিও গুরুতর অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
১৫ দিনের ব্যবধানে একই যান্ত্রিক ত্রুটি তিনবার দেখা দিলেও সেটিকে পুনরাবৃত্তিমূলক ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি। উড়োজাহাজের সিস্টেমে সাধারণত শেষ ২৭টি ফ্লাইটের তথ্য সংরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও তদন্ত শুরুর সময় পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যায়নি।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২১ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে সিলেটগামী বিজি-২০২ ফ্লাইট আকাশে থাকা অবস্থায় আবারও বিকল হয় ভ্যারিয়েবল ফ্রিকোয়েন্সি স্টার্টার জেনারেটর (ভিএফএসজি)। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ ধরনের ত্রুটির কারণে অগ্নিকাণ্ড কিংবা গিয়ারবক্সের বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়।
কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রুটি নির্ণয় ও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও উড়োজাহাজটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ব্যবহার করা হয়েছিল।
বারবার যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন, অন্য উড়োজাহাজ থেকে যন্ত্রাংশ খুলে আনা, অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ ও পরিবহণ ব্যয় মিলিয়ে রাষ্ট্রের প্রায় ২৬ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির তথ্যও প্রতিবেদনে উঠে আসে।
কমিটি ঘটনাটিকে একটি যন্ত্রাংশের ত্রুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যবস্থাপনাগত সমন্বয়হীনতা হিসেবে মূল্যায়ন করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়।
সে সময় এ বিষয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। ইতোমধ্যে তাঁকে চট্টগ্রামে বদলিও করা হয়েছে।
যদিও ২১ জুন ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরগামী ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-৩৮৬-এ সাইফুজ্জামানের সফরের কথা ছিল। পরদিন কুয়ালালামপুর থেকে চীনের ডালিয়ানগামী ভিভিআইপি ফ্লাইট বিজি-১৬০১-এর কারিগরি দায়িত্বও তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সে সময় আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।
আগের তদন্তে রক্ষণাবেক্ষণ, ত্রুটির নথি সংরক্ষণ ও প্রকৌশল বিভাগের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর শেষে ফেরার ফ্লাইটে উড্ডয়নের ঠিক আগে নতুন করে ত্রুটি ধরা পড়ায় সেই প্রশ্নগুলো আরও জোরালো হয়েছে।
তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি
প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটে পরপর যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উড্ডয়নের আগে কারিগরি পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, ত্রুটি শনাক্তের পর কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং উড্ডয়ন উপযোগিতার ছাড়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে আগের তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি, দায়ীদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থা এবং বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতাও পর্যালোচনা করা জরুরি।
কারণ, প্রধানমন্ত্রীর ভিভিআইপি ফ্লাইটের নিরাপত্তা কেবল একটি উড়োজাহাজের কারিগরি সক্ষমতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা, জাতীয় ভাবমূর্তি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পেশাগত সক্ষমতার প্রশ্নও জড়িত।
