বুধবার, ৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পদ্মার চরে ‘সোনালী ফসল’ চিনাবাদাম, তিন মাসেই তিন-চার গুণ লাভে উজ্জ্বল হাসি ফুটেছে দৌলতপুর চাষীদের মুখ

হারুন অর রশীদ
জুলাই ৮, ২০২৬ ২:৩১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ছবি : সমতল মাতৃভূমি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর বিস্তীর্ণ চরজুড়ে এবারও সোনালি সাফল্যের গল্প লিখেছেন চিনাবাদাম চাষিরা। একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা বালুচর এখন পরিণত হয়েছে লাভজনক কৃষিজমিতে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে উৎপাদিত অর্থকরী এ ফসল ঘরে তুলে তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত লাভ করছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। ফলে সংসারে ফিরেছে স্বচ্ছলতা, বদলেছে চরবাসীর জীবনচিত্র।

চলতি রবি মৌসুমে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদামের আবাদ হয়েছে। যদিও এটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ হেক্টর কম, তবুও উৎপাদন ও বাজারমূল্য—দুই দিক থেকেই সন্তুষ্ট কৃষকরা। অধিকাংশ চাষি ইতোমধ্যে বাদাম ঘরে তুলেছেন, আর কেউ কেউ এখনও ক্ষেত থেকে বাদাম সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

একসময় পদ্মার জেগে ওঠা বালুচর কৃষকদের কোনো কাজে আসত না। কিন্তু সেই অনাবাদি জমিতেই চিনাবাদাম চাষ করে ধারাবাহিক সাফল্য পাওয়ায় প্রতি বছরই এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে পুরো চরাঞ্চলজুড়ে বাদামের আবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।

কৃষকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত বাদাম উৎপাদন হয়েছে। মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘায় আবাদ করে বর্তমানে প্রতি মণ ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর দাম আরও বেশি। ফলে উৎপাদন ব্যয় বাদ দিয়েও কৃষকদের লাভের অঙ্ক তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত পৌঁছেছে।

শুধু কৃষকরাই নন, বাদাম চাষকে ঘিরে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে। ক্ষেত থেকে বাদাম তোলা, ঝাড়াই-বাছাই ও শুকানোর কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারী ও শিশুরাও অংশ নিচ্ছে।

মৌসুমি শ্রমিকরা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন, যা চরাঞ্চলের বহু পরিবারের জন্য বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠেছে।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাদাম চাষি সোহেল আহমেদ আলম বলেন, আমি প্রতি বছরই বাদামের আবাদ করি। মাত্র তিন মাসেই ফসল ঘরে তোলা যায়। এবার প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মণ উৎপাদন হয়েছে। সব খরচ বাদ দিয়েও দুই থেকে তিন গুণ লাভ হয়েছে।

স্থানীয় দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেন, বাদাম তোলার মৌসুমে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করেছি। নারী ও শিশুরাও কাজ করছে, ফলে অনেক পরিবারের অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন জানান, সরকারি প্রণোদনা, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং কৃষি বিভাগের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের কারণে এ বছর বাদামের ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মণ পর্যন্ত উৎপাদন হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ লাভবান হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নতুন জাতের বীজ, প্রণোদনা ও সার্বিক প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। তবে চরাঞ্চলে অন্যান্য লাভজনক ফসলের আবাদ বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর চিনাবাদামের আবাদ কিছুটা কমেছে।

পদ্মার অনাবাদি চরকে সম্ভাবনার কৃষিভূমিতে রূপান্তর করে দৌলতপুরের কৃষকরা আবারও প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং কৃষি বিভাগের সহায়তা থাকলে চরাঞ্চলও হতে পারে দেশের অর্থকরী ফসল উৎপাদনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।