গণপূর্ত অধিদপ্তরের শেরেবাংলা নগর–১ উপবিভাগকে ঘিরে ঘনীভূত বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মতিউর রহমান—এখনও নীরব। আর এই নীরবতাই যেন নতুন করে জন্ম দিচ্ছে অসংখ্য প্রশ্নের, অসংখ্য সংশয়ের। অভিযোগের পর অভিযোগ, তথ্যের পর তথ্য সামনে এলেও তার মুখ বন্ধ—এ নীরবতা কি আত্মরক্ষার কৌশল, নাকি প্রভাবের অদৃশ্য প্রাচীর?
একদিকে টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, অন্যদিকে কমিশনের লেনদেন—সব মিলিয়ে যেন এক জটিল জালের গল্প। যেখানে সুতো টানলেই বেরিয়ে আসে নতুন নতুন গোপন অধ্যায়। সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, এটি শুধুই দুর্নীতির গল্প নয়—এ যেন ক্ষমতা, প্রভাব আর অর্থের এক রহস্যময় প্রেমকাহিনি, যেখানে নিয়মনীতি হার মানে ব্যক্তিস্বার্থের কাছে।
অভিযোগ রয়েছে, OTM টেন্ডার পদ্ধতির আড়ালে তৈরি হয়েছিল এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য—যেখানে কাজ ভাগ হতো আগে থেকেই, দরপত্র ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। প্রতিযোগিতা যেন ছিল কাগজে-কলমে, বাস্তবে নয়। সেই সাম্রাজ্যের নীরব শাসক হিসেবে বারবার উঠে আসছে মতিউর রহমানের নাম।
স্থানীয় ঠিকাদারদের চোখে তিনি একদিকে সুযোগের দরজা, অন্যদিকে ভয়ংকর অনিশ্চয়তার প্রতীক। কেউ তার ঘনিষ্ঠ হলে কাজের স্রোত, আর দূরে থাকলে অন্ধকার। এই দ্বৈত বাস্তবতা যেন এক অদ্ভুত সম্পর্ক—যেখানে নির্ভরতা আর ভয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে এক অস্বস্তিকর বন্ধন।
সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে তার নীরবতা। অভিযোগের মুখে সাধারণত দেখা যায় আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা, ব্যাখ্যা, কিংবা অন্তত একটি প্রতিক্রিয়া। কিন্তু এখানে নেই কিছুই—না প্রতিবাদ, না ব্যাখ্যা। এই নীরবতা যেন আরও জোরালো করে তুলছে অভিযোগের প্রতিধ্বনি।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন—
এই নীরবতা কি কৌশলী আত্মগোপন?
নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনো অদৃশ্য শক্তির ছায়া?
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্কই তাকে দীর্ঘদিন ধরেই দিয়েছে এক ধরনের অদৃশ্য নিরাপত্তা বলয়। ফলে অভিযোগ উঠলেও তা অনেক সময়ই থেমে গেছে ফাইলের পাতায়, পৌঁছায়নি বিচার পর্যন্ত।
এদিকে সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সরকারি চাকরির সীমিত আয়ের বিপরীতে বিলাসবহুল জীবনযাপন—এ যেন আরেকটি অমীমাংসিত সমীকরণ। জমি, ফ্ল্যাট, বিনিয়োগ—সবকিছু মিলিয়ে গড়ে ওঠা এই সম্পদের গল্পও যেন তার নীরবতার মতোই রহস্যে মোড়া।
গণপূর্তের ভেতরে-বাইরে এখন একটাই আলোচনা—
মতিউর কেন চুপ? কারও মতে, সময়ের অপেক্ষা।
কারও মতে, চাপের ইঙ্গিত। আবার কেউ বলছেন, এই নীরবতা ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা।
তবে বাস্তবতা হলো—এই নীরবতা যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই বাড়ছে সন্দেহ, ঘনীভূত হচ্ছে অভিযোগের মেঘ।
সংশ্লিষ্টদের দাবি স্পষ্ট— স্বচ্ছতা চাই, জবাবদিহি চাই, নিরপেক্ষ তদন্ত চাই। কারণ, প্রশ্নটা শুধু একজন প্রকৌশলীকে ঘিরে নয়—
প্রশ্নটা পুরো ব্যবস্থার প্রতি আস্থা, রাষ্ট্রীয় অর্থের নিরাপত্তা, এবং ন্যায্যতার ভবিষ্যৎ।
শেষ পর্যন্ত দৃষ্টি এখন এক জায়গাতেই—এই নীরবতা কি ভাঙবে? নাকি প্রভাবের ভারে আবারও চাপা পড়ে যাবে সত্য? তবে সময়ের অপেক্ষায় পুরো মহল।
