বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির বিরোধে খুন? স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হত্যায় যুবদলের ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
জুন ৯, ২০২৬ ১০:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

রাজধানীর মৌচাক এলাকার ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র আনারকলি মার্কেটের ফুটপাত নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বিল্লাল হোসেন তালুকদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ফুটপাতে চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। যদিও পুলিশ বলছে, হত্যার প্রকৃত কারণ এখনও তদন্তাধীন।

এ ঘটনায় রমনা থানা যুবদলের আহ্বায়ক (ঘটনার পর বহিষ্কৃত) দিদারুল ইসলাম বাবুসহ ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মামলার দুই আসামি রিয়াজুল হাসান ও আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের সময় রিয়াজুল হাসানই বিল্লালের বুকে ছুরিকাঘাত করেন।

গ্রেপ্তার অভিযান ও তদন্ত

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাতেই ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি বলেন, “কী কারণে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা দ্রুতই পরিষ্কার হয়ে আসবে বলে আশা করছি।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন মো. সিরাজ, বাবুল বন্দুকসী, লুৎফর রহমান, সাইফুল ইসলাম জমাদার, কাবাদ হোসেন, সুজন, রাকিবুল ইসলাম শিহাব ওরফে গোল্ডেন রাকিব, সুমন, জুয়েল, সোহেল, হৃদয়, রশিদ, সিয়াম, লিটন দর্জি, সোহেল (২), পারভেজ, বিল্লাল ও ছাত্তার। এছাড়া আরও ৭ থেকে ৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটল হামলা

সোমবার রাতে মৌচাকের আনারকলি মার্কেটের সামনে রমনা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই ও ছাত্রদলের সাবেক নেতা হেলাল সাদী অভিযোগ করেন, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত।

তার দাবি, “রমনা থানা যুবদলের নেতা দিদারুল ইসলাম বাবুর আগেই পরিকল্পনা ছিল। মহানগরের এক প্রভাবশালী নেতাও এর সঙ্গে জড়িত। বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা বিলের নামে যে চাঁদাবাজি চলত, তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। স্থানীয় এমপির বাসায় বিষয়টি মীমাংসাও হয়েছিল। কিন্তু বাবু তা মানেননি।

তিনি আরও বলেন, “সোমবার রাতে ভাইকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সরাসরি হৃদপিণ্ডের কাছে ছুরিকাঘাত করা হয়। এক আঘাতেই সব শেষ। এটি নিছক মারামারি নয়, হত্যার উদ্দেশ্যেই তাকে ডাকা হয়েছিল।

তার অভিযোগ, আনারকলি মার্কেট এলাকায় মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হতো এবং বিল্লাল হোসেন ওই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন।

এজাহারে উঠে এসেছে যে অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহতের ভাগনে মোবারক হোসেন আকাশ আনারকলি মার্কেটে ব্যবসা করেন। অভিযোগ রয়েছে, দিদারুল ইসলাম বাবু ও তার সহযোগীরা মার্কেটসংলগ্ন ফুটপাত এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ময়লা বিলের নামে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতেন।

ফুটপাতে কে দোকান বসাবে, কে ব্যবসা করবে কিংবা ব্যবসা ছেড়ে দেবে—এসব বিষয়ও তাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমে ছিল।

এজাহারে বলা হয়েছে, আকাশের সঙ্গে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দিদারুল ইসলাম বাবুর বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধ নিষ্পত্তির কথা বলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিল্লাল হোসেনকে আনারকলি মার্কেটের পেছনে ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া আসামিরা রাত পৌনে ৮টার দিকে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘবদ্ধভাবে বিল্লালের ওপর হামলা চালায়। কিল-ঘুষি ও হকিস্টিক দিয়ে মারধরের একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে কয়েকজন তার হাত-পা চেপে ধরে।

এ সময় একজনকে বলতে শোনা যায়, শালাকে জানে মেরে ফেল।

এরপর এজাহারে নাম থাকা আসামি রিয়াজুল হাসান ধারালো ছোরা দিয়ে বিল্লালের বুকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্তে কী বেরিয়ে আসবে?

চাঁদাবাজি, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, অভ্যন্তরীণ বিরোধ নাকি অন্য কোনো কারণ—বিল্লাল হোসেন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আনার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।