মঙ্গলবার, ৩০শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিআরটিএর ফিটনেস সনদ ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ: মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমকে ঘিরে প্রশ্ন, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৩০, ২০২৬ ১:৫৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ (উত্তরা-দিয়াবাড়ি) কার্যালয়ের ফিটনেস শাখাকে ঘিরে দালাল সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবা প্রক্রিয়ায় নানা অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একাধিক সেবাগ্রহীতা ও পরিবহন মালিকের অভিযোগ, এসব অনিয়মের ঘটনায় মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করলেও অনেক ক্ষেত্রে ফাইল বারবার ফেরত দেওয়া হয়, বিভিন্ন অজুহাতে জটিলতা তৈরি করা হয় এবং সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করলে একই কাজ অল্প সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক আবেদনকারী।

পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্টদের দাবি, সরকারি ফির বাইরে এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে পরিচালিত হয় যে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা শেষ পর্যন্ত দালালের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হন। ফলে সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পরিবহন মালিক আজম, মালেক, আব্দুল গনি ও সামাদসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ফিটনেস শাখার কার্যক্রম নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকলেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। তাদের দাবি, কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে দালালদের প্রকাশ্য তৎপরতা থাকলেও তা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরিবহন মালিক বলেন, নিয়ম মেনে গেলে কাজ হয় না। কিন্তু দালালের মাধ্যমে গেলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যায়।

আরও অভিযোগ রয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত কিছু যানবাহনও অর্থের বিনিময়ে ফিটনেস সনদ পাচ্ছে। পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এমন অভিযোগের সত্যতা থাকে, তবে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়—সড়ক নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

একাধিক সেবাগ্রহীতা সরাসরি মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলমের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মোটরযান পরিদর্শক কায়সার আলম বলেন, আমি এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। আর মোবাইলে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, অতীতেও বিআরটিএর ফিটনেস সনদ প্রদান, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ঘুষের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে জাতীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০১৬ সালের গণশুনানি, ২০১৮ সালের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন এবং ২০২২ সালে পরিদর্শন ছাড়াই ফিটনেস সনদ দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। এসব ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার কথাও জানানো হয়।

দূরপাল্লার পরিবহন মালিক, স্থানীয় পরিবহন উদ্যোক্তা এবং চালকদের দাবি, ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয়ের ফিটনেস শাখার কার্যক্রম এবং সেবাগ্রহীতাদের উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তাদের মতে, বিআরটিএ সদর দপ্তর, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং জনমনে আস্থা ফিরবে।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শফিকুজ্জামান ভূইয়া বলেন, আমরা সব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে কাজ করছি। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। দালালমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বিআরটিএর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ কার্যালয়ের ফিটনেস শাখা, দালাল সিন্ডিকেট এবং উত্থাপিত অভিযোগের নেপথ্যের তথ্য নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী পর্বে সংশ্লিষ্ট নথি, আরও অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য প্রকাশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
বিশেষ খবর সর্বশেষ