বুধবার, ১লা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিআরটিসির গাবতলী ডিপো ম্যানেজার নায়েব আলীর বিরুদ্ধে রাজস্বে ৮ কোটি টাকার ক্ষতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জুন ৩০, ২০২৬ ২:০৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

রাজনৈতিক প্রভাব, বিভাগীয় শাস্তি মওকুফ ও দুর্নীতির অভিযোগে পুনঃতদন্তের দাবি। ফাইল ছবি

বিগত সরকারের রাজনৈতিক প্রভাবকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসি) বিভিন্ন ডিপোতে সীমাহীন দুর্নীতি, রাজস্ব আত্মসাৎ ও অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান গাবতলী বাস ডিপো ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ইউনিট প্রধান এবং ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) নায়েব আলীর বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে একাধিকবার গুরুতর আর্থিক অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখোমুখি হলেও রাজনৈতিক প্রভাব ও ঊর্ধ্বতন মহলকে প্রভাবিত করে তিনি বারবার শাস্তি এড়িয়ে গেছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ পুনরায় তদন্ত করে রাষ্ট্রীয় অর্থ উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।

২০১৬ সালে জোয়ারসাহারা ডিপোতে ভুয়া বিল-ভাউচারের অভিযোগ

২০১৬ সালে জোয়ারসাহারা বাস ডিপোর ম্যানেজার থাকাকালীন বাস মেরামত না করেই ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে নায়েব আলীর বিরুদ্ধে।

২০১৬ সালের ৮ মে তৎকালীন মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনে ডিপোর ৫৭৩৯, ৫৭৪১ ও ৫৩৮১ নম্বর বাস অত্যন্ত নিম্নমানের ও চলাচলের অনুপযোগী হিসেবে শনাক্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কর্পোরেশনের আদেশ নং ৩৫.০৪.০০০০.০১১.০০.৪৬৬.৮৮৭ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করিয়ে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে আসেন তিনি।

মতিঝিল ডিপোতে ৮ কোটি ২০ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগ

নায়েব আলীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে মতিঝিল বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) থাকাকালীন, ২৭ মার্চ ২০১৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২০১৯ সময়ে।

অভিযোগ অনুযায়ী, LoC-2 ঋণ প্রকল্পের আওতায় ভারত থেকে আমদানিকৃত ৩৫টি নতুন বাস সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে অনুমোদনহীনভাবে কম ভাড়ায় পরিচালনা করা হয়।

ফলে প্রতিদিন গড়ে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৮৭ টাকা হারে বিআরটিসির মোট ৮ কোটি ২০ লাখ ৬২ হাজার ৬৮৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়।

কর্পোরেশনের অডিট বিভাগের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে নায়েব আলীর প্রত্যক্ষ দায়িত্বে অবহেলার কারণে ১ কোটি ৭৭ লাখ ৪১ হাজার ৮০৭ টাকা সরাসরি রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়, যা দুর্নীতি, আত্মসাৎ ও চরম প্রশাসনিক ব্যর্থতার শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

এই ঘটনায় ২০২০ সালের ১৩ অক্টোবর পত্র নং ১৭৮৫ অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

শাস্তি কমিয়ে আনার অভিযোগ

অভিযোগ রয়েছে, বিভাগীয় মামলায় প্রথমে দুই বছরের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার শাস্তি (আদেশ নং-২৪২২) পেলেও তৎকালীন চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামকে প্রভাবিত করে এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে সেই শাস্তি কমিয়ে মাত্র এক বছরে নিয়ে আসেন নায়েব আলী।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পুরো বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে তদন্তযোগ্য।

খুলনা ডিপোতেও অনিয়মের অভিযোগ

খুলনা বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন) থাকাকালীনও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।

২০২২ সালের ২৪ নভেম্বর কর্পোরেশনের পত্র নং ২১০৯ অনুযায়ী ভুল তথ্য প্রদান করে ৪ লাখ ৮৭ হাজার ১৯০ টাকা নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যয় বা আত্মসাতের অভিযোগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তীতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে বিষয়টি সম্পূর্ণ ধামাচাপা দিতে সক্ষম হন তিনি।

পুনঃতদন্তের দাবি

বিআরটিসির কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সচেতন মহলের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নায়েব আলীর মতো কর্মকর্তারা দায়মুক্তি পেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রয়েছেন।

তাদের দাবি, রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতি, অনিয়ম ও আত্মসাতের অভিযোগে নায়েব আলীর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব বিভাগীয় মামলা ও অভিযোগের ফাইল পুনরায় খুলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। একই সঙ্গে দোষ প্রমাণিত হলে রাষ্ট্রীয় অর্থ আদায়, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, উপরে বর্ণিত সব অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।