ছবি: সমতল মাতৃভূমি
দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক, নিরাপদ ও গতিশীল করার দাবিতে ভাঙা–কুয়াকাটা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীতকরণের আহ্বান জানিয়ে পটুয়াখালীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যাপক অংশগ্রহণে মানববন্ধন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পটুয়াখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মহাসড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে জেলার ব্যবসায়ী, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, শ্রমিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
মানববন্ধনে অংশ নেয় পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি, বাস-মিনিবাস শ্রমিক সমিতিসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দ্রুত মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীত করার আহ্বান জানান।
বক্তারা বলেন, দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা এবং দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জেলা পটুয়াখালীসহ আশপাশের জেলার মানুষের রাজধানী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো ভাঙা–কুয়াকাটা মহাসড়ক। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ মহাসড়কে যানবাহনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও সড়কের সক্ষমতা সেই অনুপাতে বাড়েনি। ফলে প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ যানজট, ধীরগতির যান চলাচল এবং ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। এতে যাত্রী, পরিবহন মালিক, চালক ও ব্যবসায়ীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ, কৃষি ও মৎস্যপণ্য দ্রুত পরিবহন এবং দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ভাঙা–কুয়াকাটা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। একটি আধুনিক ও প্রশস্ত মহাসড়ক নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ, নিরাপদ ও দ্রুততর হবে। একই সঙ্গে কুয়াকাটাকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা ভাঙা–কুয়াকাটা মহাসড়ককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৬ লেনে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত হলে শুধু পটুয়াখালী বা কুয়াকাটাই নয়, বরং পুরো উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
