রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দুদকের চিঠিকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি, সাবেক এমডিকে রক্ষায় আইএফআইসি চেয়ারম্যানের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি
জুন ২৮, ২০২৬ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

দুদকের নির্দেশনা উপেক্ষা, বিতর্কিত এমডিকে পুনর্বাসন—ফরেনসিক অডিটে বেরিয়ে আসছে ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য। ফাইল ছবি

আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলম সারওয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক আনুষ্ঠানিক চিঠি ও কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ। বরং অভিযোগ উঠেছে, দুদকের নির্দেশনাকে কার্যত উপেক্ষা করে সাবেক এমডিকে প্রভাবশালী পদে পুনর্বাসন করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন।

দুদকের অনুসন্ধান উইং ও আইএফআইসি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রগুলো জানায়, ক্ষমতার অপব্যবহার, ভুয়া ও বেনামি প্রতিষ্ঠানের নামে হাজারো কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর দুদক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন ও তৎকালীন প্রভাবশালী পরিচালনা পর্ষদের ব্যক্তিগত সখ্য, পারস্পরিক স্বার্থ ও প্রভাবের কারণে সেই নির্দেশনা বছরের পর বছর বাস্তবায়ন হয়নি।

দুদকের অনুসন্ধান ও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট সূত্র জানায়, শাহ আলম সারওয়ারের আমলে ঋণের নামে ব্যাংকের আমানতকারীদের বিপুল অর্থ লুটপাট ও বিদেশে পাচারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর দুদক আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনা পর্ষদকে চিঠি দেয়। চিঠিতে বিতর্কিত, ভুয়া ও পর্যাপ্ত জামানতবিহীন ঋণসমূহের উচ্চপর্যায়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও ফৌজদারি আইনে পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশনা ছিল।

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, দুদকের এমন কঠোর নির্দেশনার পরও সাবেক এমডি শাহ আলম সারওয়ারের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং মেয়াদ শেষে তাকে বিদায় না দিয়ে ব্যাংকের ‘কৌশলগত উপদেষ্টা’ বা সমমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার বাইরে রাখার চেষ্টা করা হয়।

ব্যাংকসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের তৎকালীন উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে শাহ আলম সারওয়ারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও ব্যবসায়িক সমঝোতার কারণেই তাকে এই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল। ফলে আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও তিনি ব্যাংকের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার অব্যাহত রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বেক্সিমকো গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং নামে-বেনামে খোলা অসংখ্য ভুয়া প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ অনুমোদন করা হয়, যার বড় অংশ বর্তমানে খেলাপি ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ‘শ্রীপুর টাউনশিপ’সহ বেক্সিমকোর একাধিক বিতর্কিত আবাসন প্রকল্পে নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়, যার বড় অংশ আর ব্যাংকে ফেরত আসেনি।

দুদকের চিঠিতে এসব ঋণ অনুমোদন ও বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং বিষয়টিকে দেশের ব্যাংকিং খাতের অন্যতম বড় জালিয়াতির অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে আইএফআইসি ব্যাংকের পুরোনো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। বর্তমান পর্ষদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে শাহ আলম সারওয়ারের আমলে অনুমোদিত সব বিতর্কিত ঋণের ওপর পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট চলছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফরেনসিক অডিটের প্রতিবেদন হাতে পেলেই সাবেক এমডি শাহ আলম সারওয়ার, তৎকালীন চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেন এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচার আইনে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে আইএফআইসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মেহমুদ হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খানের মোবাইল ফোনেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি এবং পাঠানো খুদে বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।